চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পহেলা বৈশাখ (সোমবার) সকাল থেকেই সীতাকুণ্ড শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ পুরো উপজেলা এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
দিনের শুরুতেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। রঙিন মুখোশ, ঢোল-বাদ্য আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে মেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন মো. আসলাম চৌধুরী।

উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী বলেন, “বাংলা নববর্ষ বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। সংস্কৃতি চর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে মানুষের ভয়মুক্ত চলাফেরা এবং সর্বস্তরে আইনের শাসন নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের স্বাধীনভাবে উৎসব উদযাপন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। তিনি সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মেলা প্রাঙ্গণে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তারা নান্দনিক হস্তশিল্প, মাটির তৈজসপত্র, পাট ও বাঁশের তৈরি পণ্যের স্টল দেন। এছাড়া পিঠা-পুলি ও দেশীয় খাবারের দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিনোদনমূলক ব্যবস্থা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় ক্ষুদে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য, আবৃত্তি এবং লোকজ অনুষ্ঠান দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও দিনব্যাপী আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন , সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কমল কদর ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিন।
এছাড়াও বিভিন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
অন্যদিকে একই দিনে সীতাকুণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পৃথক বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন আসলাম চৌধুরী। সেখানে তিনি কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে সরকারি কলেজে রূপান্তরের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সীতাকুণ্ডের এই বর্ষবরণ উৎসব এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা স্থানীয়দের হৃদয়ে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















