০৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘নিরাপদ নগর গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য’: উত্তর কাট্টলীতে ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। মহাসড়কের এ কে খান গেট সংলগ্ন ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের নিউ মনসুরাবাদ এলাকায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণকাজের সূচনা হয়েছে।

গত রবিবার (১২ এপ্রিল) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রকল্পের খুঁটিনাটি: চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৩১.৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ মিটার প্রস্থের এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করছে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড। ব্রিজের দুই পাশে পথচারীদের ওঠানামার জন্য সুপরিসর দুটি সিঁড়ি থাকবে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৪ টাকা।

মেয়রের বক্তব্য: ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “এ কে খান গেট এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে দূরপাল্লার বাসের প্রবল চাপের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপার হতে হিমশিম খেতে হয়। এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মিত হলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের পাশাপাশি ওই এলাকায় যানজট নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে। আমাদের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নগর গড়ে তোলা।”

উপকৃত হবেন দুই ওয়ার্ডের মানুষ: মেয়র জানান, এই ব্রিজটির সুফল পাবেন মূলত ১০ নং উত্তর কাট্টলী এবং ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষ এখন থেকে জীবনের ঝুঁকি ছাড়াই মহাসড়ক পার হতে পারবেন।

নগরজুড়ে ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজের পরিকল্পনা: চসিক মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরজুড়ে মোট ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪টি ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে এবং ১৫টির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাকি ১৭টি ব্রিজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও আবু সাদাত তৈয়বসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এই প্রবেশপথে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে বাইকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু

‘নিরাপদ নগর গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য’: উত্তর কাট্টলীতে ডা. শাহাদাত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। মহাসড়কের এ কে খান গেট সংলগ্ন ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের নিউ মনসুরাবাদ এলাকায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণকাজের সূচনা হয়েছে।

গত রবিবার (১২ এপ্রিল) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফুটওভার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রকল্পের খুঁটিনাটি: চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৩১.৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ মিটার প্রস্থের এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করছে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড। ব্রিজের দুই পাশে পথচারীদের ওঠানামার জন্য সুপরিসর দুটি সিঁড়ি থাকবে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৪ টাকা।

মেয়রের বক্তব্য: ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “এ কে খান গেট এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে দূরপাল্লার বাসের প্রবল চাপের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপার হতে হিমশিম খেতে হয়। এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মিত হলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের পাশাপাশি ওই এলাকায় যানজট নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে। আমাদের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নগর গড়ে তোলা।”

উপকৃত হবেন দুই ওয়ার্ডের মানুষ: মেয়র জানান, এই ব্রিজটির সুফল পাবেন মূলত ১০ নং উত্তর কাট্টলী এবং ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষ এখন থেকে জীবনের ঝুঁকি ছাড়াই মহাসড়ক পার হতে পারবেন।

নগরজুড়ে ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজের পরিকল্পনা: চসিক মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরজুড়ে মোট ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪টি ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে এবং ১৫টির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাকি ১৭টি ব্রিজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও আবু সাদাত তৈয়বসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এই প্রবেশপথে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড;