০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলপনার রঙে বর্ণিল চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসকের তুলিতে নববর্ষ আবাহনের সূচনা

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে উৎসবের বর্ণিল মহোৎসব। এই উদ্‌যাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে নগরের প্রধান রাজপথে আঁকা হয়েছে বিশাল আলপনা। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে সার্কিট হাউজ থেকে লাভ লেইন হয়ে ডিসি হিল পর্যন্ত এই আলপনা অঙ্কন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রোববার রাত থেকেই শুরু হয় এই সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ। সার্কিট হাউজ মোড় থেকে ঐতিহাসিক ডিসি হিল পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কটি এখন আর কেবল পিচঢালা কালো পথ নেই; তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল ক্যানভাসে। কয়েকশ শিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবকের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় রাজপথ সেজেছে বাঙালির চিরায়ত আলপনার মোটিফে। জেলা প্রশাসক নিজে তুলি হাতে এই আলপনা অঙ্কনের শুভ সূচনা করেন, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এই আনন্দ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার প্রয়াস। এই আলপনা কেবল রাজপথ রঙিন করছে না, এটি আমাদের মনের সংকীর্ণতা দূর করে নতুন আলোর পথে যাত্রা করার প্রতীক।”

সার্কিট হাউজ থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত বিস্তৃত এই বর্ণিল আলপনা দেখতে রাতেই ভিড় জমান অসংখ্য উৎসুক নগরবাসী। আলপনার মোটিফে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লতাপাতা, ফুল ও লোকজ মোটিফ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজপথে এমন শিল্পকর্ম নগরে উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আলপনা অঙ্কন চলাকালীন এই রুটগুলোতে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক এই কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখের ভোরে এই আলপনা ঘেরা পথ দিয়েই বের হবে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে চট্টগ্রামের প্রতিটি কোণ যেন আজ নতুনের আবাহনে মুখরিত। আলপনার এই রঙের রেখা ধরে নতুন বছর ১৪৩৩ বয়ে আনুক সমৃদ্ধি ও শান্তি—এমনই প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর।

খালেদ / পোস্টকার্ড

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

আলপনার রঙে বর্ণিল চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসকের তুলিতে নববর্ষ আবাহনের সূচনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে উৎসবের বর্ণিল মহোৎসব। এই উদ্‌যাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে নগরের প্রধান রাজপথে আঁকা হয়েছে বিশাল আলপনা। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে সার্কিট হাউজ থেকে লাভ লেইন হয়ে ডিসি হিল পর্যন্ত এই আলপনা অঙ্কন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রোববার রাত থেকেই শুরু হয় এই সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ। সার্কিট হাউজ মোড় থেকে ঐতিহাসিক ডিসি হিল পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কটি এখন আর কেবল পিচঢালা কালো পথ নেই; তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল ক্যানভাসে। কয়েকশ শিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবকের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় রাজপথ সেজেছে বাঙালির চিরায়ত আলপনার মোটিফে। জেলা প্রশাসক নিজে তুলি হাতে এই আলপনা অঙ্কনের শুভ সূচনা করেন, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এই আনন্দ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার প্রয়াস। এই আলপনা কেবল রাজপথ রঙিন করছে না, এটি আমাদের মনের সংকীর্ণতা দূর করে নতুন আলোর পথে যাত্রা করার প্রতীক।”

সার্কিট হাউজ থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত বিস্তৃত এই বর্ণিল আলপনা দেখতে রাতেই ভিড় জমান অসংখ্য উৎসুক নগরবাসী। আলপনার মোটিফে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লতাপাতা, ফুল ও লোকজ মোটিফ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজপথে এমন শিল্পকর্ম নগরে উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আলপনা অঙ্কন চলাকালীন এই রুটগুলোতে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক এই কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখের ভোরে এই আলপনা ঘেরা পথ দিয়েই বের হবে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে চট্টগ্রামের প্রতিটি কোণ যেন আজ নতুনের আবাহনে মুখরিত। আলপনার এই রঙের রেখা ধরে নতুন বছর ১৪৩৩ বয়ে আনুক সমৃদ্ধি ও শান্তি—এমনই প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর।

খালেদ / পোস্টকার্ড