সীতাকুণ্ড সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মধ্যম ঘোড়ামরা এলাকার সন্তান আনিসুর রহমান চৌধুরী (জাবিন চৌধুরী)। বৃহস্পতিবার সকালে ভাটিয়ারী শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় একটি দ্রুতগামী লরির ধাক্কায় তাঁর জীবনের সফর চিরতরে শেষ হয়ে যায়।
জাবিন চৌধুরীর এই আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহপাঠী এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাবিন স্থানীয় রোজ গার্ডেন একাডেমি স্কুলের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এটি কেবল একজন মানুষের মৃত্যু নয়; বরং একটি সাজানো-গোছানো পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। জাবিনের অকাল বিদায়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে একটি পরিবারের সকল স্বপ্ন, হাসি-খুশি আর সুন্দর ভবিষ্যৎ। পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না যে, প্রাণোচ্ছ্বল এই তরুণ আর কোনোদিন বাড়ি ফিরবে না।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে জাবিন চৌধুরী ভাটিয়ারী শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় একটি বেপরোয়া গতির লরি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের এই অংশে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চালকদের অসতর্কতা এবং গতির প্রতিযোগিতার বলি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জাবিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্কুল জীবনের বন্ধু ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জাবিনের সাথে কাটানো স্মৃতি শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন।
বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। জাবিনের অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
একই সঙ্গে ভাটিয়ারীসহ সীতাকুণ্ডের ব্যস্ততম পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। একটি পরিবারের সকল আনন্দ কেড়ে নেওয়া এই ঘাতক লরির মতো আর কোনো লরি যেন কারও জীবনের স্বপ্ন কেড়ে না নেয়—এটাই এখন সাধারণ মানুষের আকুতি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















