১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি ও সরকারি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জলিল গেইট এলাকায় সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে সহযোগিতা করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জলিল এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ‘ম্যাপ্স এলপিজি’ (MAPS LPG) ও ‘জিহাদ ট্রেডার্স’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার প্রতি কয়েকশ টাকা বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে।

তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধ স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার গুঞ্জনকে পুঁজি করে সাধারণ ক্রেতাদের ঠকাচ্ছিল।

তিনি বলেন, “পাইকারি পর্যায়ে যে সিলিন্ডার ১,২৯০ টাকায় ক্রয় করা হয়েছে, তা খুচরা বাজারে ১,৯০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৬০০ টাকারও বেশি মুনাফা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও স্পষ্ট করে বলেন, “সরকারিভাবে দাম বৃদ্ধির কোনো কার্যকর ঘোষণা আসার আগেই যারা আগেভাগে দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ও কঠোর বাজার মনিটরিং আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে, প্রশাসনের এই তদারকি কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীতাকুণ্ডের অনেক দুর্গম এলাকায় ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। নিয়মিত এমন অভিযান চললে বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

সীতাকুণ্ডে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি ও সরকারি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জলিল গেইট এলাকায় সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে সহযোগিতা করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জলিল এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ‘ম্যাপ্স এলপিজি’ (MAPS LPG) ও ‘জিহাদ ট্রেডার্স’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার প্রতি কয়েকশ টাকা বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে।

তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধ স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার গুঞ্জনকে পুঁজি করে সাধারণ ক্রেতাদের ঠকাচ্ছিল।

তিনি বলেন, “পাইকারি পর্যায়ে যে সিলিন্ডার ১,২৯০ টাকায় ক্রয় করা হয়েছে, তা খুচরা বাজারে ১,৯০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৬০০ টাকারও বেশি মুনাফা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও স্পষ্ট করে বলেন, “সরকারিভাবে দাম বৃদ্ধির কোনো কার্যকর ঘোষণা আসার আগেই যারা আগেভাগে দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ও কঠোর বাজার মনিটরিং আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে, প্রশাসনের এই তদারকি কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীতাকুণ্ডের অনেক দুর্গম এলাকায় ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। নিয়মিত এমন অভিযান চললে বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;