০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চট্টগ্রামে হামের পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় ব্যহত চিকিৎসা সেবা

সীতাকুণ্ডে তিন দিনে ১১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ, স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক!

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। তবে এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসায় বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, যা শিশুদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার প্রথমে দুই শিশুর শরীরে জ্বর, কাশি ও লাল দানাযুক্ত র‍্যাশ দেখা দিলে তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন মঙ্গলবার একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশু চিকিৎসার জন্য এলে তাদের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার আরও ছয় শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে তাদের শরীরেও একই উপসর্গ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১১ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন এখনো না আসায় চিকিৎসা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স এক বছরের কম এবং বাকি ১০ জনের বয়স ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আক্রান্ত সব শিশুই পূর্বে হামের টিকা গ্রহণ করেছিল। এতে টিকার কার্যকারিতা ও সংক্রমণের প্রকৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, “শিশুদের মধ্যে হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া বা বমির মতো জটিল উপসর্গ দেখা যায়নি। তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে আক্রান্তদের মধ্যে দুই শিশু সুস্থ হয়ে উঠেছে, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তবে চট্টগ্রামে হামের পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে, ফলে প্রতিবেদন পেতে সময় লাগছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে আক্রান্ত শিশুদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত পরীক্ষা রিপোর্ট পাওয়া না গেলে এবং প্রয়োজনীয় আইসোলেশন নিশ্চিত না করা গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত হাত ধোয়া, আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়ানো, প্রয়োজনীয় টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া—এসব বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি।

স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

চট্টগ্রামে হামের পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় ব্যহত চিকিৎসা সেবা

সীতাকুণ্ডে তিন দিনে ১১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ, স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক!

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। তবে এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসায় বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, যা শিশুদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার প্রথমে দুই শিশুর শরীরে জ্বর, কাশি ও লাল দানাযুক্ত র‍্যাশ দেখা দিলে তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন মঙ্গলবার একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশু চিকিৎসার জন্য এলে তাদের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার আরও ছয় শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে তাদের শরীরেও একই উপসর্গ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১১ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন এখনো না আসায় চিকিৎসা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স এক বছরের কম এবং বাকি ১০ জনের বয়স ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আক্রান্ত সব শিশুই পূর্বে হামের টিকা গ্রহণ করেছিল। এতে টিকার কার্যকারিতা ও সংক্রমণের প্রকৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, “শিশুদের মধ্যে হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া বা বমির মতো জটিল উপসর্গ দেখা যায়নি। তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে আক্রান্তদের মধ্যে দুই শিশু সুস্থ হয়ে উঠেছে, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তবে চট্টগ্রামে হামের পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে, ফলে প্রতিবেদন পেতে সময় লাগছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে আক্রান্ত শিশুদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত পরীক্ষা রিপোর্ট পাওয়া না গেলে এবং প্রয়োজনীয় আইসোলেশন নিশ্চিত না করা গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত হাত ধোয়া, আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়ানো, প্রয়োজনীয় টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া—এসব বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি।

স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;