১২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে ব্রি’র বিশেষ উদ্যোগ, বারৈয়ারঢালায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

দেশের ক্রমহ্রাসমান কৃষিজমি থেকে সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে এবং পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক বিশেষ গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের তত্ত্বাবধানে ‘রবিশস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রচলিত পতিত-রোপা আমন শস্য বিন্যাসের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের মহালঙ্গা গ্রামে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ব্রি (গাজীপুর)-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাফসিন আরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি গাজীপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমানত উল্লাহ রাজু এবং ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন চট্টগ্রামের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছাঃ আমিনা খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “সীতাকুণ্ডের অনেক জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পতিত থাকে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এক ফসলি জমিকে ধাপে ধাপে দ্বি-ফসলি জমিতে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে কৃষকরা একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাফসিন আরাফ বলেন, “আমরা ‘রবি শস্য-পতিত-রোপা আমন’—এই মডেলটি নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে জমির ব্যবহার দক্ষতা ও সার্বিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।”

গবেষণার অংশ হিসেবে বর্তমানে মহালঙ্গা গ্রামের প্রদর্শনী প্লটগুলোতে চাষ করা হচ্ছে , সূর্যমুখী ,সরিষা , ফেলন ও মুগ ডাল ।

বিজ্ঞানীরা জানান, এসব রবি শস্য অন্তর্ভুক্তির ফলে কেবল কৃষকের আয়ই বাড়বে না, বরং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। মাঠ দিবসে উপস্থিত স্থানীয় কৃষকরা এই নতুন শস্য বিন্যাস দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদে নিজেদের সম্মতির কথা জানান।

প্রকল্পটি ব্রি’র এলএসটিডি (LSTD) প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই মডেলটি সফল হলে পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলের শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে বাইকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে ব্রি’র বিশেষ উদ্যোগ, বারৈয়ারঢালায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

দেশের ক্রমহ্রাসমান কৃষিজমি থেকে সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে এবং পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক বিশেষ গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের তত্ত্বাবধানে ‘রবিশস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রচলিত পতিত-রোপা আমন শস্য বিন্যাসের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের মহালঙ্গা গ্রামে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ব্রি (গাজীপুর)-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাফসিন আরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি গাজীপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমানত উল্লাহ রাজু এবং ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন চট্টগ্রামের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছাঃ আমিনা খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “সীতাকুণ্ডের অনেক জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পতিত থাকে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এক ফসলি জমিকে ধাপে ধাপে দ্বি-ফসলি জমিতে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে কৃষকরা একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাফসিন আরাফ বলেন, “আমরা ‘রবি শস্য-পতিত-রোপা আমন’—এই মডেলটি নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে জমির ব্যবহার দক্ষতা ও সার্বিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।”

গবেষণার অংশ হিসেবে বর্তমানে মহালঙ্গা গ্রামের প্রদর্শনী প্লটগুলোতে চাষ করা হচ্ছে , সূর্যমুখী ,সরিষা , ফেলন ও মুগ ডাল ।

বিজ্ঞানীরা জানান, এসব রবি শস্য অন্তর্ভুক্তির ফলে কেবল কৃষকের আয়ই বাড়বে না, বরং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। মাঠ দিবসে উপস্থিত স্থানীয় কৃষকরা এই নতুন শস্য বিন্যাস দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদে নিজেদের সম্মতির কথা জানান।

প্রকল্পটি ব্রি’র এলএসটিডি (LSTD) প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই মডেলটি সফল হলে পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলের শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;