১০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোর রাত থেকে জঙ্গল সলিমপুরে চিরুনি অভিযানে যৌথ বাহিনী

দীর্ঘ দুই দশকের ‘সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য’খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল করতে সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত থেকে শুরু হয়েছে বিশাল এক সাঁড়াশি অভিযান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং এপিবিএন-এর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন।

অভিযানের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল জানান, আজ ভোররাত ৪টা থেকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। তিনি বলেন, “সকালে পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রবেশের প্রতিটি পথ এবং বের হওয়ার মুখে বসানো হয়েছে কঠোর তল্লাশি চৌকি, যাতে কোনো অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে।”

বর্তমানে বিশাল এই বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অভিযানে ড্রোন এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বাহিনী।

গত ১৯ জানুয়ারি এই দুর্গম এলাকায় অভিযানে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিন ও তার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার শিকার হয় র‍্যাব-৭। সেই হামলায় র‍্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং তিন জন সদস্য গুরুতর আহত হন। সন্ত্রাসীরা সে সময় র‍্যাবের গাড়ি ভাঙচুর, গুলি বর্ষণ এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখায়।

পরবর্তীতে সীতাকুণ্ড থানায় মোহাম্মদ ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আজকের এই বিশাল অভিযান সেই বর্বরোচিত হামলার এবং অপরাধীদের আস্তানা চিরতরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত; জঙ্গল সলিমপুরের বিশাল পাহাড়ি এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে এখানে পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য ও অবৈধ দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। সশস্ত্র পাহারায় থাকা এসব সন্ত্রাসীদের কারণে এলাকাটি প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

অভিযান সূত্রে জানা যায় , ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে যৌথ বাহিনী। এবারের অভিযানে আভিযানিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে । এই অভিযানের অংশ নিচ্ছে ৫৫০ জন সেনা সদস্য, ১৮০০ পুলিশ, ৪০০ র‍্যাব, ৩৩০ এপিবিএন এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য। তাছাড়া অভিযানে ১৫টি আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (APC), ৩টি ডগ স্কোয়াড এবং ৩টি হেলিকপ্টার রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ের গভীরে সুনির্দিষ্ট আস্তানাগুলোতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

ভোর রাত থেকে জঙ্গল সলিমপুরে চিরুনি অভিযানে যৌথ বাহিনী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকের ‘সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য’খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল করতে সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত থেকে শুরু হয়েছে বিশাল এক সাঁড়াশি অভিযান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং এপিবিএন-এর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন।

অভিযানের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল জানান, আজ ভোররাত ৪টা থেকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। তিনি বলেন, “সকালে পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রবেশের প্রতিটি পথ এবং বের হওয়ার মুখে বসানো হয়েছে কঠোর তল্লাশি চৌকি, যাতে কোনো অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে।”

বর্তমানে বিশাল এই বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অভিযানে ড্রোন এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বাহিনী।

গত ১৯ জানুয়ারি এই দুর্গম এলাকায় অভিযানে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিন ও তার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার শিকার হয় র‍্যাব-৭। সেই হামলায় র‍্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং তিন জন সদস্য গুরুতর আহত হন। সন্ত্রাসীরা সে সময় র‍্যাবের গাড়ি ভাঙচুর, গুলি বর্ষণ এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখায়।

পরবর্তীতে সীতাকুণ্ড থানায় মোহাম্মদ ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আজকের এই বিশাল অভিযান সেই বর্বরোচিত হামলার এবং অপরাধীদের আস্তানা চিরতরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত; জঙ্গল সলিমপুরের বিশাল পাহাড়ি এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে এখানে পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য ও অবৈধ দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। সশস্ত্র পাহারায় থাকা এসব সন্ত্রাসীদের কারণে এলাকাটি প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

অভিযান সূত্রে জানা যায় , ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে যৌথ বাহিনী। এবারের অভিযানে আভিযানিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে । এই অভিযানের অংশ নিচ্ছে ৫৫০ জন সেনা সদস্য, ১৮০০ পুলিশ, ৪০০ র‍্যাব, ৩৩০ এপিবিএন এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য। তাছাড়া অভিযানে ১৫টি আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (APC), ৩টি ডগ স্কোয়াড এবং ৩টি হেলিকপ্টার রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ের গভীরে সুনির্দিষ্ট আস্তানাগুলোতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;