পবিত্র রমজান আর আসন্ন ঈদের আনন্দকে এক সুতোয় গাঁথতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী উৎসব ‘রামাদান মজলিশ-২০২৬’। নগরীর ফয়’স লেক রোডে অবস্থিত আধুনিক লাইফস্টাইল ডেস্টিনেশন ‘গ্যালেরিয়া-ইউর সেকেন্ড হোম’-এর অ্যাম্বিয়েন্স হলে ৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ৭ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত উৎসবপ্রিয় মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকছে এই আয়োজন।

আয়োজকরা জানান, ঈদের কেনাকাটা আর রমজানের আড্ডা—সবই এখন মিলছে এক ঠিকানায়। মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের জনপ্রিয় সব রেস্টুরেন্ট, ফ্যাশন হাউস, জুয়েলারি ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড। ৪০টিরও বেশি স্টলে সাজানো হয়েছে ট্রেন্ডি ফ্যাশন আইটেম, হাতে তৈরি হস্তশিল্প, কসমেটিকস এবং আভিজাত্যপূর্ণ জুয়েলারি। উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ক্রিয়েটিভ হাউস ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট।

অন্যদিকে আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলার অন্যতম আকর্ষণ গ্যালেরিয়ার নান্দনিক গ্র্যান্ড ডাইনিং হল। কেনাকাটার ফাঁকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আরামদায়ক পরিবেশে ইফতার করার পাশাপাশি এখানে পাওয়া যাচ্ছে রসনা তৃপ্তিকর সেহরির সুযোগ। স্থানীয় জনপ্রিয় খাবারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নানা পদের সমাহারে জমে উঠছে সেহরি ও ইফতারের টেবিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডিএল পরিবারের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন, চট্টগ্রাম ক্লাবের চেয়ারম্যান শোভন এম শাহাবুদ্দিন রাজ, বারকোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুরুল হক এবং ক্রিয়েটিভ হাউস ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা তানজিলা কাশিফি সহ অন্যান্য অতিথিরা।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন কেবল কেনাকাটার মাধ্যম নয়, বরং এটি সামাজিক মেলবন্ধন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফয়’স লেকের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত ‘গ্যালেরিয়া’ এমনিতেই তার আতিথেয়তার জন্য পরিচিত। সুসজ্জিত ইভেন্ট ভেন্যু, আলোকসজ্জা আর রমজানের থিমে সাজানো পুরো চত্বর দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করেছে এক মায়াবী পরিবেশ। কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডায় রাত ৩টা পর্যন্ত মুখর থাকছে পুরো এলাকা। প্রথম দিন থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ভিড় প্রমাণ করছে, চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে এই ‘রামাদান মজলিশ’।

প্রথম দিন থেকেই এই আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসছেন। অনেকে কেনাকাটার পাশাপাশি ইফতার ও রাতের আড্ডা উপভোগ করছেন।

আয়োজকদের আশা, রমজানের এই বিশেষ আয়োজন চট্টগ্রামবাসীর কাছে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। আগামী দিনগুলোতেও এমন আয়োজনের মাধ্যমে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।

তিনদিনের এই Ramadan Majlish ইতোমধ্যে নগরীর তরুণ সমাজ ও পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আয়োজকরা সবাইকে এই আয়োজনে অংশ নিয়ে রমজানের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়েছেন। 🌙✨
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















