চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৭ বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী বাবু শেখকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সীতাকুণ্ডের কুমিরা কাজী পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা চট্টগ্রামের কুমিরা এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেনের মেয়ে। গ্রেপ্তার বাবু শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুনুপাড়া এলাকার মৃত হাদেম শেখের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাবু শেখ চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ইরাকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে ইরাকে সীতাকুণ্ড পাহাড় এলাকায় নিয়ে তিনি। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে। ক্ষিপ্ত হয়ে বাবু শেখ তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে শিশুটির গলা কেটে দেয়। ইরা মারা গেছে ভেবে ঝোপের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যান বাবু।

গলা কাটা অবস্থায় শিশুটি পাহাড়ের একটি নির্মাণাধীন রাস্তার পাশে চলে আসেন। দুপুর দেড়টার দিকে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পায়। পুলিশ খবর পেয়ে ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। দুদিন পর মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযানে নামে জেলা পুলিশ। সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে পাহাড় পর্যন্ত সড়কের দীর্ঘ সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতককে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্থায়ী বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় হলেও সে শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকত।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাবু শেখকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য । পুলিশের কাছে বাবু স্বীকার করেছেন যে, ইরার বাবা মনির হোসেনের সাথে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ওসি জানান, অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে ইরার রক্তমাখা পোশাকসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বাবু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















