০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের প্রবাসীর মৃত্যু, আহত ১

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইন-এ প্রাণ হারিয়েছেন সন্দ্বীপের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নিহত মো. তারেক (৪৮) সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের আজিমপুর পাহাড় এলাকার গো মসজিদ বাড়ির বাসিন্দা। একই ঘটনায় নাজিম (৪৫) নামে আরেক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন তারেক। জীবিকার তাগিদে তিনি ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যে থাকা অঞ্চলেই একটি ড্রাইডক/শিপইয়ার্ডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার ভোরে ডিউটিরত অবস্থায় হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ডকের পাশেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি ছিল, যা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আকাশেই ধ্বংস হওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো ছিটকে এসে তারেকের শরীরে আঘাত হানে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আহত নাজিম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের মামাতো ভাই, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল-এর পরিচালক মোশাররফ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তারেক। পরিবারের ভবিষ্যতের জন্যই এত বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন।”

তারেকের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আজিমপুর পাহাড় এলাকা। তার একমাত্র মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর হয়তো স্বপ্ন ছিল একদিন স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে দূরদেশেই নিভে গেল তারেকের স্বপ্ন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে বাইকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু

বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের প্রবাসীর মৃত্যু, আহত ১

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইন-এ প্রাণ হারিয়েছেন সন্দ্বীপের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নিহত মো. তারেক (৪৮) সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের আজিমপুর পাহাড় এলাকার গো মসজিদ বাড়ির বাসিন্দা। একই ঘটনায় নাজিম (৪৫) নামে আরেক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন তারেক। জীবিকার তাগিদে তিনি ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যে থাকা অঞ্চলেই একটি ড্রাইডক/শিপইয়ার্ডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার ভোরে ডিউটিরত অবস্থায় হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ডকের পাশেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি ছিল, যা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আকাশেই ধ্বংস হওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো ছিটকে এসে তারেকের শরীরে আঘাত হানে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আহত নাজিম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের মামাতো ভাই, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল-এর পরিচালক মোশাররফ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তারেক। পরিবারের ভবিষ্যতের জন্যই এত বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন।”

তারেকের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আজিমপুর পাহাড় এলাকা। তার একমাত্র মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর হয়তো স্বপ্ন ছিল একদিন স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে দূরদেশেই নিভে গেল তারেকের স্বপ্ন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;