০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডের বিকেওয়াই জুট মিলসের বর্জ্য সন্ত্রাস, বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগার হাট এলাকায় বিকেওয়াই (BKY) জুট মিলস কর্তৃক মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি ফেলার ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কারখানার বর্জ্যে নিয়মিত আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ছোট দারোগার হাট সংলগ্ন এলাকায় ফ্যাক্টরির যাবতীয় আবর্জনা ও ময়লা পানি সরাসরি ফেলা হচ্ছে। এর ফলে যে সকল মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে:

  • বায়ু দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি: বর্জ্য পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসজনিত রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
  • দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন: পচনশীল বর্জ্য ও স্তূপীকৃত ময়লার তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী এবং নিকটস্থ ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠছে।
  • দুর্ঘটনার আশঙ্কা: বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়ায় মহাসড়কের দৃশ্যমানতা (Visibility) কমে যাওয়ায় দ্রুতগামী যানবাহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
  • পানি ও কৃষি জমি দূষণ: কারখানার অপরিশোধিত ময়লা পানি নিকটস্থ জলাশয় ও কৃষি জমিতে মিশে দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা নষ্ট করছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে।

শ্রমিক অসন্তোষ ও অব্যবস্থাপনা

উল্লেখ্য যে, এই বিকেওয়াই জুট মিলসটি সম্প্রতি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় না করার ফলে বড় ধরনের আন্দোলনের মুখে পড়েছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার ছাপ এখন কারখানার বাইরে পরিবেশের ওপরও পড়তে শুরু করেছে। শ্রমিক অসন্তোষের রেশ না কাটতেই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

সীতাকুণ্ডের বিকেওয়াই জুট মিলসের বর্জ্য সন্ত্রাস, বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগার হাট এলাকায় বিকেওয়াই (BKY) জুট মিলস কর্তৃক মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি ফেলার ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কারখানার বর্জ্যে নিয়মিত আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ছোট দারোগার হাট সংলগ্ন এলাকায় ফ্যাক্টরির যাবতীয় আবর্জনা ও ময়লা পানি সরাসরি ফেলা হচ্ছে। এর ফলে যে সকল মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে:

  • বায়ু দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি: বর্জ্য পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসজনিত রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
  • দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন: পচনশীল বর্জ্য ও স্তূপীকৃত ময়লার তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী এবং নিকটস্থ ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠছে।
  • দুর্ঘটনার আশঙ্কা: বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়ায় মহাসড়কের দৃশ্যমানতা (Visibility) কমে যাওয়ায় দ্রুতগামী যানবাহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
  • পানি ও কৃষি জমি দূষণ: কারখানার অপরিশোধিত ময়লা পানি নিকটস্থ জলাশয় ও কৃষি জমিতে মিশে দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা নষ্ট করছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে।

শ্রমিক অসন্তোষ ও অব্যবস্থাপনা

উল্লেখ্য যে, এই বিকেওয়াই জুট মিলসটি সম্প্রতি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় না করার ফলে বড় ধরনের আন্দোলনের মুখে পড়েছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার ছাপ এখন কারখানার বাইরে পরিবেশের ওপরও পড়তে শুরু করেছে। শ্রমিক অসন্তোষের রেশ না কাটতেই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;