০২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বেচ্ছায় বিদায় নিতে চান রাষ্ট্রপতি, ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশনে কি ঘটবে বড় কোনো পরিবর্তন?

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল যখন মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের চাবিকাঠি হাতে নিয়েছিলেন, তখন রাজনীতির সমীকরণ ছিল ভিন্ন। কিন্তু ২০২৪-এর আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল এবং সবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন দেশের মানুষের দৃষ্টি একটিই প্রশ্নের ওপর— রাষ্ট্রপতি কি তবে স্বেচ্ছায় বিদায় নিচ্ছেন?

রাষ্ট্রপতির মেয়াদের আরও দুই বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও, রাজনৈতিক অলিন্দে গুঞ্জন উঠেছে তার পদত্যাগ নিয়ে। তবে এই পদত্যাগ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কৌশল।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন সরকার তাকে অভিশংসন বা অপসারণের পথে হাঁটতে চায় না। বরং রাষ্ট্রপতি নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশনটিই হতে পারে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের আনুষ্ঠানিক মঞ্চ। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সুবিধামতো সময়ে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেবেন—এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বিগত দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হয়েছে। নতুন সদস্যদের শপথ ও স্পিকার নির্বাচন কে পরিচালনা করবেন?

সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং সংসদ সচিবালয় সূত্র বলছে, এখানে ভরসা কেবল ‘সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি’। বিধি অনুযায়ী, নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য সাময়িকভাবে সভাপতিত্ব করবেন। তার নেতৃত্বেই নির্বাচিত হবেন নতুন স্পিকার। এরপর সেই নতুন স্পিকারের সামনেই হয়তো রচিত হবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দৃশ্যপট।

রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের শূন্য পদের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে এখন চায়ের কাপে ঝড় উঠছে।

স্পিকারের দৌড়ে: পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রবীণ নেতা ড. আবদুল মঈন খান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং সাবেক মন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নাম শোনা যাচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকারের আলোচনায়: তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান রয়েছেন আলোচনায়।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি: দেশের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে গুঞ্জন রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো ঝানু রাজনীতিবিদদের নাম।

সাংবিধানিক সংকটের শঙ্কা ও উত্তরণ বিষয়ে বিষেশজ্ঞরা বলচছেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠলেও বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলো তখন ‘সাংবিধানিক শূন্যতা’র আশঙ্কায় তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু এখন সংসদ গঠিত হওয়ায় সেই আইনি বাধা আর নেই। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন, ফলে কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে না।

১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতা ছাড়তে আগ্রহী। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে তিনি সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে চান।

আগামী ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশন কেবল নতুন আইন প্রনয়ণ বা স্পিকার নির্বাচনের নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ‘ক্ষমতার পালাবদলের’ সাক্ষী হতে যাচ্ছে। বঙ্গভবনের ঘড়িতে কি তবে বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠেছে? উত্তর মিলবে সংসদ অধিবেশনের প্রথম প্রহরেই।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

স্বেচ্ছায় বিদায় নিতে চান রাষ্ট্রপতি, ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশনে কি ঘটবে বড় কোনো পরিবর্তন?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল যখন মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের চাবিকাঠি হাতে নিয়েছিলেন, তখন রাজনীতির সমীকরণ ছিল ভিন্ন। কিন্তু ২০২৪-এর আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল এবং সবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন দেশের মানুষের দৃষ্টি একটিই প্রশ্নের ওপর— রাষ্ট্রপতি কি তবে স্বেচ্ছায় বিদায় নিচ্ছেন?

রাষ্ট্রপতির মেয়াদের আরও দুই বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও, রাজনৈতিক অলিন্দে গুঞ্জন উঠেছে তার পদত্যাগ নিয়ে। তবে এই পদত্যাগ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কৌশল।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন সরকার তাকে অভিশংসন বা অপসারণের পথে হাঁটতে চায় না। বরং রাষ্ট্রপতি নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশনটিই হতে পারে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের আনুষ্ঠানিক মঞ্চ। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সুবিধামতো সময়ে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেবেন—এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বিগত দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হয়েছে। নতুন সদস্যদের শপথ ও স্পিকার নির্বাচন কে পরিচালনা করবেন?

সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং সংসদ সচিবালয় সূত্র বলছে, এখানে ভরসা কেবল ‘সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি’। বিধি অনুযায়ী, নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য সাময়িকভাবে সভাপতিত্ব করবেন। তার নেতৃত্বেই নির্বাচিত হবেন নতুন স্পিকার। এরপর সেই নতুন স্পিকারের সামনেই হয়তো রচিত হবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দৃশ্যপট।

রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের শূন্য পদের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে এখন চায়ের কাপে ঝড় উঠছে।

স্পিকারের দৌড়ে: পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রবীণ নেতা ড. আবদুল মঈন খান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং সাবেক মন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নাম শোনা যাচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকারের আলোচনায়: তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান রয়েছেন আলোচনায়।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি: দেশের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে গুঞ্জন রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো ঝানু রাজনীতিবিদদের নাম।

সাংবিধানিক সংকটের শঙ্কা ও উত্তরণ বিষয়ে বিষেশজ্ঞরা বলচছেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠলেও বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলো তখন ‘সাংবিধানিক শূন্যতা’র আশঙ্কায় তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু এখন সংসদ গঠিত হওয়ায় সেই আইনি বাধা আর নেই। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন, ফলে কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে না।

১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতা ছাড়তে আগ্রহী। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে তিনি সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে চান।

আগামী ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশন কেবল নতুন আইন প্রনয়ণ বা স্পিকার নির্বাচনের নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ‘ক্ষমতার পালাবদলের’ সাক্ষী হতে যাচ্ছে। বঙ্গভবনের ঘড়িতে কি তবে বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠেছে? উত্তর মিলবে সংসদ অধিবেশনের প্রথম প্রহরেই।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;