সীতাকুণ্ডে আগাম টমেটোর ক্ষেতে আরলি রাইট রোগের শিকার হয়ে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৩০ হেক্টর টমেটো ক্ষেত নষ্ট হয়ে ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৩ কোটি টাকার। ফলে লাভের বদলে সর্বনাশ দেখছে হাজার হাজার কৃষক। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি কৃষকরা পরামর্শ না মেনে চাষাবাদ করায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সৈয়দপুর, মুরাদপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরের মতো এবছরও আগাম টমেটো চাষ করেছিলেন হাজার হাজার চাষি। প্রতিবছর এ আগাম টমেটো বাজারে বিক্রি করলে মৌসুমী টমেটোর চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি লাভবান হলেও এবার সৈয়দপুর ও মুরাদপুর দুটি ইউনিয়নে ক্ষেতে আরলি ব্লাইট নামক রোগের আক্রমণে ক্ষেতের পর ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে কৃষকরা চরম সর্বনাশের মুখে পড়েছেন।
উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকার কৃষক মোহাম্মদ হোসেন জানান, আগাম টমেটো চাষ করলে শীতের টমেটো আসার আগেই তা বিক্রি করা যায়। এ সময় দামও পাওয়া যায় অনেক বেশি। তাই প্রতিবছর আমি আগাম টমেটো চাষ করি। গতবছর ৩৫ শতক জমিতে আগাম টমেটো চাষ করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিক্রি করেছিলাম । এক লক্ষ টাকা খরচ বাদ দিয়েও দুই লাখ টাকা লাভ হয়েছিলো। তাই এ বছর ৪০ শতক জমিতে টমেটোর চাষ করেছিলাম। ভেবেছিলাম লাভও বেশ ভালো হবে। আরলি ব্লাইট রোগ দমনে কীটনাশক ও বালাই- নাশক ব্যবহার করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। একই ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকার কৃষক ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবছর আগাম টমেটোতে লাভবান হয়েছি। এবারও সেই আশায় ছিলাম। কিন্তু রোগের আক্রমণে ক্ষেত শেষ। এই রোগের বিষয়ে কৃষকরা কীটনাশক বিক্রেতাদের পরামর্শ মেনে ওষুধ দিয়ে কোন ফল পাননি। এতে ক্ষতি যা হবার তা হয়েছে। এই কৃষকরা জানান, মুরাদপুরের আরো অসংখ্য কৃষক আগাম টমেটো চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই অবস্থা সৈয়দপুর ইউনিয়নেও হয়েছে ।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. মহিউদ্দীন বলেন, আমি এক একর জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছি। আরলি ব্লাইট রোগে আক্রান্ত হয়ে পুরো ক্ষেত ঝলসে গেছে। এতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছি।
এসব কৃষকরা বলেন, আগাম টমেটো বাজারে আসলে প্রথম দিকে প্রতি কেজি টমেটো পাইকারি বাজারে ১২০-১৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়। এই মূল্যের কারণে আগাম টমেটোতে বেশ ভালো লাভ হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে আসে শীতের টমেটো। যা মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত ক্ষেতে পাওয়া যায়। কিংবা সংরক্ষণ করে পরবর্তীতেও বিক্রি সম্ভব। কিন্তু শীতে সব ক্ষেতের টমেটো একসাথে আসায় দাম কমতে থাকে। মৌসুমের শেষের দিকে টমেটো অবিক্রিত থাকে। এমনকি ফেলেও দেয়া দেয়া হয় ।
কৃষকদের দাবি, প্রতি শতক জমিতে টমেটো চাষে খরচ হয় সাড়ে ৪-৫ হাজার টাকা। সেই হিসেবে দুই ইউনিয়নে ১২০ হেক্টর জমির টমেটো নষ্ট হয়েছে তাতে কৃষকদের ১৩ কোটি টাকার মতো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ।
এ বিষয় নিয়ে কথা হয় সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহ এর সাথে । তিনি বলেন, টমেটো হলো শীতকালীন সবজি। আগাম টমেটো চাষ শুরু হয় গ্রীষ্মকালে। তাই এ টমেটো চাষের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। টমেটো চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্রাফটিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এবার গ্রীষ্মকালে বেশি বৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে আগাম টমেটো চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো চাষাবাদকালে রোগবালাই নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিলেও অনেক কৃষক তা মানেননি। তাতে বেড়েছে ক্ষতি ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















