০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবরূপে ফিরছে মেঘের রাজ্য সাজেক

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক। এখানে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। চারপাশে সুউচ্চ পাহাড় আর মেঘেদের আনাগোনার মনোরম দৃশ্যের কারণে মেঘের রাজ্য নামে পরিচিতি পেয়েছে সাজেক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৮০০ ফুট উচ্চতায় সাজেকের অবস্থান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে নিমিষেই পুড়ে যায় এখানকার ৩২টি রিসোর্ট ও কটেজ, ৬টি রেস্তোরাঁসহ ২০টি দোকান। এ ছাড়া আগুনে স্থানীয় ত্রিপুরাদের ২০টি এবং লুসাই জনগোষ্ঠীর ১৬টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ স্থাপনা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। 

সাজেকের ইকোভ্যালি রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ও গায়ে গায়ে লেগে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায়। আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক জানায়, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আগুনে অন্তত ১৪০টি রিসোর্ট, কটেজ ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশার কথা হলো, বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ধাক্কা সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। 

সরেজমিন ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে দোকান, কটেজ, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও খাবার হোটেলসহ বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও মনোবল হারাননি তারা, বরং নতুন করে ঘর তুলতে শুরু করেছেন। পাহাড় ও স্বপ্নঘেরা এ জনপদে আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। স্থানীয়দের সহযোগিতা, প্রশাসনের তৎপরতা এবং পর্যটন ব্যবসার প্রতি মানুষের টান- সব মিলিয়ে আবার প্রাণ ফিরছে সাজেকের পর্যটনে।

এ প্রসঙ্গে কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ইতিমধ্যে সাজেকে পুড়ে যাওয়া রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই নতুন এসব স্থাপনা তোলা হচ্ছে। রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো যথাসাধ্য মানসম্মত ও নান্দনিকভাবে নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলেও জানান কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল। কথা হয় রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁর নকশাকার মো. খোরশেদ আলমের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, সাজেকে নতুন করে যেসব রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো সবই পরিবেশবান্ধব। পরিকল্পিতভাবে একটি স্থাপনা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে আরেকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনটানা, মায়োরিটি, তরুছায়া, ছাউনি, মেঘঘুর, বারিসা, আর্দিকাসহ বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের কাজ ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ এগিয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেস্তোরাঁ ও কটেজগুলোর কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনটানা রেস্তোরাঁর মালিক মো. জহির বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমি চরম ক্ষতির মুখে পড়ে যাই। আমার রেস্তোরাঁ আগুনে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পুনরায় রেস্তোরাঁ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, আসছে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রেস্তোরাঁর কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে। কথা হয় মায়োরিটি রেস্তোরাঁ এবং তরুছায়া, ছাউনি ও মেঘঘুর রিসোর্টের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে। 

এ সময় তারা জানান, খুব দ্রুত তাদের রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের কাজ শেষ হয়ে যাবে। কাজ শেষ হলে আবারও আগের মতো পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠবে তাদের রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের অঙ্গন। উল্লেখ্য, রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ সাজেক ভ্যালি যা ভারতের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা অবস্থিত। 

সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকে সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজের উপস্থিতি মুগ্ধ করে সবাইকে। এখানে হেলিপ্যাড থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় মেঘের ভেলার অপূর্ব দৃশ্য দেখে বিমোহিত হন পর্যটকরা। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। কংলাকে যাওয়ার পথে মিজোরাম সীমান্তের বড় বড় পাহাড়, আদিবাসীদের জীবনযাপন আর চারদিকে মেঘের আনাগোনা পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

নবরূপে ফিরছে মেঘের রাজ্য সাজেক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক। এখানে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। চারপাশে সুউচ্চ পাহাড় আর মেঘেদের আনাগোনার মনোরম দৃশ্যের কারণে মেঘের রাজ্য নামে পরিচিতি পেয়েছে সাজেক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৮০০ ফুট উচ্চতায় সাজেকের অবস্থান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে নিমিষেই পুড়ে যায় এখানকার ৩২টি রিসোর্ট ও কটেজ, ৬টি রেস্তোরাঁসহ ২০টি দোকান। এ ছাড়া আগুনে স্থানীয় ত্রিপুরাদের ২০টি এবং লুসাই জনগোষ্ঠীর ১৬টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ স্থাপনা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। 

সাজেকের ইকোভ্যালি রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ও গায়ে গায়ে লেগে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায়। আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক জানায়, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আগুনে অন্তত ১৪০টি রিসোর্ট, কটেজ ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশার কথা হলো, বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ধাক্কা সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। 

সরেজমিন ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে দোকান, কটেজ, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও খাবার হোটেলসহ বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও মনোবল হারাননি তারা, বরং নতুন করে ঘর তুলতে শুরু করেছেন। পাহাড় ও স্বপ্নঘেরা এ জনপদে আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। স্থানীয়দের সহযোগিতা, প্রশাসনের তৎপরতা এবং পর্যটন ব্যবসার প্রতি মানুষের টান- সব মিলিয়ে আবার প্রাণ ফিরছে সাজেকের পর্যটনে।

এ প্রসঙ্গে কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ইতিমধ্যে সাজেকে পুড়ে যাওয়া রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই নতুন এসব স্থাপনা তোলা হচ্ছে। রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো যথাসাধ্য মানসম্মত ও নান্দনিকভাবে নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলেও জানান কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল। কথা হয় রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁর নকশাকার মো. খোরশেদ আলমের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, সাজেকে নতুন করে যেসব রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো সবই পরিবেশবান্ধব। পরিকল্পিতভাবে একটি স্থাপনা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে আরেকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনটানা, মায়োরিটি, তরুছায়া, ছাউনি, মেঘঘুর, বারিসা, আর্দিকাসহ বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের কাজ ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ এগিয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেস্তোরাঁ ও কটেজগুলোর কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনটানা রেস্তোরাঁর মালিক মো. জহির বলেন, অগ্নিকাণ্ডে আমি চরম ক্ষতির মুখে পড়ে যাই। আমার রেস্তোরাঁ আগুনে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পুনরায় রেস্তোরাঁ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, আসছে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রেস্তোরাঁর কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে। কথা হয় মায়োরিটি রেস্তোরাঁ এবং তরুছায়া, ছাউনি ও মেঘঘুর রিসোর্টের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে। 

এ সময় তারা জানান, খুব দ্রুত তাদের রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের কাজ শেষ হয়ে যাবে। কাজ শেষ হলে আবারও আগের মতো পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠবে তাদের রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের অঙ্গন। উল্লেখ্য, রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ সাজেক ভ্যালি যা ভারতের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা অবস্থিত। 

সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকে সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজের উপস্থিতি মুগ্ধ করে সবাইকে। এখানে হেলিপ্যাড থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় মেঘের ভেলার অপূর্ব দৃশ্য দেখে বিমোহিত হন পর্যটকরা। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। কংলাকে যাওয়ার পথে মিজোরাম সীমান্তের বড় বড় পাহাড়, আদিবাসীদের জীবনযাপন আর চারদিকে মেঘের আনাগোনা পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;