ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “উন্নয়ন মানে কেবল সড়ক, ভবন বা অবকাঠামো নয়। উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়—এটি একটি আমানত। আর নেতৃত্ব মানে প্রভুত্ব নয়, জনগণের খেদমত।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। অতীতে যে পঁচা রাজনীতি বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেই রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতি দেখতে চান না, তাদেরকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।”
জামায়াত আমির আরও বলেন, “যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়, তাদের হাতে এই দেশ নিরাপদ নয়। হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে যেমন পরোয়া করিনি, তেমনি ভবিষ্যতের কোনো ফ্যাসিস্টকেও পরোয়া করার প্রশ্নই ওঠে না।”
সারা দেশে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “এই জোয়ার দেখে একটি মহল ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে তারা হামলা ও অরাজকতার পথ বেছে নিচ্ছে। কিন্তু জনগণ এখন ইনসাফের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।”
তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ভোট পাহারা দিয়ে ফলাফল হাতে নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে। কোনো ভোট ডাকাতকে ডাকাতি করতে দেওয়া হবে না, কোনো জালিয়াতকে জালিয়াতি করতে দেওয়া হবে না।”
রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নৈতিকতার অভাব থেকেই বৈষম্য, দুর্নীতি ও অনিয়ম জন্ম নেয়। তরুণ সমাজকে মূল্যবোধে শক্তিশালী করা, নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বীর চট্টলা একটা জেলায় আছে, সেটা চট্টগ্রাম। যারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। আজ বাংলাদেশ বলে দিয়েছে। আজাদী জেগে উঠেছে, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া জোয়ার উঠেছে। স্বাধীনতার পর সরকার এসেছে, সরকার গেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তিনি আজ সীতাকুণ্ডে জামায়াত আয়োজিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, কেউ যদি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে আসে, তাদের আইনের হাতে তুলে দেবেন। আগে একটা স্লোগান ছিল, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। এবার তা হবে না, যে দুটি ভোট দিতে আসবে তার হাত গুটিয়ে দেব।
জনসভায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী চৌধুরী বলেন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মানুষ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার শিকার। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন চরিত্রবান নেতৃত্ব ও সংগঠিত সামাজিক দায়িত্ববোধ।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ পুনর্গঠনই আমাদের লক্ষ্য।”
বক্তারা বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে জনগণের সচেতনতা ও নৈতিক অবস্থান অপরিহার্য। দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানান তারা।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়েতের এ্যাসিটেন্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা শ্রমিক সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী এডভোকেট ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম- ৩ আসনের প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম -৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম -৫ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মনির, চট্টগ্রাম -৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু , চট্টগ্রাম -৭ আসনের প্রার্থী ডাঃ এটিএম রেজাউল করিম, সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব,,কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম, ডাকসু ভিপি এসএম ফরহাদ, চবি শিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, উত্তর জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি শওকত আলী,হাসান ইমাম- আসন পরিচালক (ছাত্র) এনসিপি শাগুফতা বুশরা মিশমা,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মাওলানা জাফরুল্লাহ নিজামী, এপি পার্টি জিয়া চেীধুরী, নেজামে ইসলাম পার্টি মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ আলী, হাফেজ জাকারিয়া খালেদ, সীতাকুন্ড উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান,সেক্রেটারী,মোঃ তাহের, আকবরশাহ থানা আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, সন্দ্বীপ উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ , ফটিকছড়ি উপজেলা আমীর নাজিক উদ্দিন ইমু,ভুজপুর উপজেলা আমীর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, হাটহাজারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক শোয়াইব চৌধুরী, রাউজান উপজেলা আমীর শাহজাহান মঞ্জু রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর- মাওলানা হাসান মুরাদ, মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল কবির, জোরারগঞ্জ থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল হুদা হামিদী।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ এবং নারী-পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















