০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০০ ফিটের পথে তারেক রহমান, জনসমুদ্রে পরিণত রাজধানী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশে ফিরলেন । তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সেখানে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। পরে বুলেট প্রুফ বাসে চড়ে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট) অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন।

এদিকে ১১টা ৪৪ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি–২০২ (বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার) নামে। এর আগে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি।

এর আগে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তিন’শ ফিট সড়ক পরিণত হয়েছে মানুষের মহাসমুদ্রে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এ সমাবেশকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো সংবর্ধনাস্থল। কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা নেই, জনস্রোতের মাঝে শুধু উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশা।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই তিনশ’ ফিট সড়ক, তার আশপাশের অলিগলি এবং সংযোগ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ৮টার দিকে দৃশ্যটি আরও ঘনীভূত হয়। মঞ্চের সামনে তো বটেই, আশপাশের প্রতিটি জায়গায় দাঁড়িয়ে মানুষ অপেক্ষা করছেন তাদের প্রিয় নেতার এক ঝলক দেখার জন্য। স্লোগান, ব্যানার, ফেস্টুন আর জাতীয় ও দলীয় পতাকায় পুরো এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে।

সংবর্ধনাস্থলের মূল মঞ্চ প্রস্তুত। মঞ্চে ১৯টি চেয়ার রাখা হয়েছে। মঞ্চের চারপাশে ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরাও সক্রিয় রয়েছেন।

তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইটে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীদের স্রোত রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসে। পশ্চিম ও পূর্ব দিকের মহাসড়ক দিয়ে একের পর এক মিছিল তিনশ’ ফিটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বরিশাল, রাজশাহী, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষ ট্রেনে নেতাকর্মীরা রাতেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। কেউ কেউ বাস, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত যানবাহনেও রাজধানীতে এসেছেন।

নেতাকর্মীদের স্লোগানে, গান আর করতালিতে পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে। দীর্ঘ নির্বাসনের পর দলের শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এক আবেগঘন পুনর্মিলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

৩০০ ফিটের পথে তারেক রহমান, জনসমুদ্রে পরিণত রাজধানী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশে ফিরলেন । তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সেখানে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। পরে বুলেট প্রুফ বাসে চড়ে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট) অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন।

এদিকে ১১টা ৪৪ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি–২০২ (বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার) নামে। এর আগে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি।

এর আগে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তিন’শ ফিট সড়ক পরিণত হয়েছে মানুষের মহাসমুদ্রে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এ সমাবেশকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো সংবর্ধনাস্থল। কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা নেই, জনস্রোতের মাঝে শুধু উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশা।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই তিনশ’ ফিট সড়ক, তার আশপাশের অলিগলি এবং সংযোগ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ৮টার দিকে দৃশ্যটি আরও ঘনীভূত হয়। মঞ্চের সামনে তো বটেই, আশপাশের প্রতিটি জায়গায় দাঁড়িয়ে মানুষ অপেক্ষা করছেন তাদের প্রিয় নেতার এক ঝলক দেখার জন্য। স্লোগান, ব্যানার, ফেস্টুন আর জাতীয় ও দলীয় পতাকায় পুরো এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে।

সংবর্ধনাস্থলের মূল মঞ্চ প্রস্তুত। মঞ্চে ১৯টি চেয়ার রাখা হয়েছে। মঞ্চের চারপাশে ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরাও সক্রিয় রয়েছেন।

তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইটে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীদের স্রোত রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসে। পশ্চিম ও পূর্ব দিকের মহাসড়ক দিয়ে একের পর এক মিছিল তিনশ’ ফিটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বরিশাল, রাজশাহী, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষ ট্রেনে নেতাকর্মীরা রাতেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। কেউ কেউ বাস, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত যানবাহনেও রাজধানীতে এসেছেন।

নেতাকর্মীদের স্লোগানে, গান আর করতালিতে পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে। দীর্ঘ নির্বাসনের পর দলের শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এক আবেগঘন পুনর্মিলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;