০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনার আয়োজন

তারেক রহমান কাল ফিরছেন, চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছেন ১০ লক্ষ লোক!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দেশে ফিরছেন । এদিন দুপুরে দেশের মাটিতে পা রাখবেন তিনি। তার এই প্রত্যাবর্তনকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে বিএনপি।

প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। উপস্থিতির দিক দিয়ে অতীতের সব রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড ভাঙার প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা। ইতিমধ্যে সারা দেশ থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাদের দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান এবং গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বিপুল জনসমাগমের নজির রয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে যে উদ্দীপনা ও প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তাতে উপস্থিতির দিক দিয়ে অতীতের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে এই গণসংবর্ধনা। 

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সে কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই সংবর্ধনায় অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন জাগরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকায় আসা শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জেলা, উপজেলার নেতাকর্মীরা নিজেরাই ভাড়া করছেন বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস। প্রতি জেলা থেকে ৩০-৪০ হাজার, বিভাগ থেকে ৩-৪ লাখ নেতাকর্মী জড়ো করার টার্গেট রয়েছে দলটির। বুধবার থেকেই রাজধানীর চারপাশ থেকে ঢাকামুখী জনস্রোত শুরু হবে বলে আশা তাদের। 

ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান কয়েকবার দেশে এলেও তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। অবশেষে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর কুড়িলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে দলটি। সর্বোচ্চ জনসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো আয়োজন সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলের পাশাপাশি সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে দলটি। মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দফায় দফায় দলটির শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন। 

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সংবর্ধনায় অন্তত ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন তারা। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যও রয়েছে এই আয়োজনের পেছনে। মঙ্গলবার সংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। সেদিন তার সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। আশা করছি অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি হবে।’ 

জানা গেছে, সংবর্ধনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আজকের মধ্যে অনেকে চলে আসবেন ঢাকায়। দলের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এ ছাড়া ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে এদিনের কর্মসূচি সফল করবেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক : গত সোমবার বৈঠক করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈঠকে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে নেতারা আলোচনা করেন। এ সময় কেউ কেউ তারেক রহমানকে ঢাকা থেকে নির্বাচন করতে অনুরোধ জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। 

বৈঠক সূত্র জানায়, সমমনা দল ও জোটের আসন সমঝোতাসহ নিজ দলের বিতর্কিত আর দুর্বল প্রার্থীদের নিয়েও সভায় আলোচনা করেন। সেখানে মিত্র দলগুলোর আসন সমঝোতা অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে বলে দলের নেতারা জানান। তবে সারা দেশে বিতর্কিত আর দুর্বল প্রার্থীদের বিষয়ে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। 

বৈঠকে তারেক রহমানের সংবর্ধনার মঞ্চে কারা উপস্থিত থাকবেন সেটি নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সুপার ‘টু’ নেতারা থাকবেন। এর বাইরে জুলাই যোদ্ধা নিহত পরিবার ও আহত পরিবারের একজন করে সদস্য থাকবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, ঢাকার যেকোনো একটি আসন থেকে তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারেন। শনিবার তিনি ভোটার হবেন এবং তারপর সময়মতো তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। 

শাহজালালে পৌঁছেই যোগ দেবেন সংবর্ধনায় : দেশে পৌঁছার পর তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তারেক রহমানের সংবর্ধনার মঞ্চে সঙ্গী হবেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সংবর্ধনা শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। সেখান থেকে গুলশানে মায়ের বাসায় উঠবেন তারেক রহমান। 

শাহজালালে নিরাপত্তা জোরদার, যাত্রী ছাড়া প্রবেশ নিষেধ : তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তার আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার পুলিশ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বিকাল থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য। বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ব্যতীত সব ধরনের সহযাত্রী ও ভিজিটরের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এ প্রেক্ষিতে যাত্রী সাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বেবিচক কর্তৃপক্ষের পাঠানো অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমানবন্দর ও তার আশপাশ এলাকায় যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ ও বেআইনি। 

তারেক রহমানের প্রস্তুতি সম্পন্ন : বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২০ ফ্লাইটে টিকেট বুকিং করেছেন তিনি। ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটির বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচ সফরসঙ্গীর টিকেট বুকিং দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমান। এ ছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজন আছেন। 

সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তা : জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিন বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। তার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে। নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এ নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও বৈঠক করছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত তারেক রহমানকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তার বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। 

অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত হুমকির কথা উল্লেখ করে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নিরাপত্তার আবেদন করেছে দলটি। তবে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। গতকাল দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক হয়। 

এদিকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় অন্তত ৯টি চেকপোস্ট চালু রয়েছে। তারেক রহমানের আসার আগে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে, প্রয়োজন অনুযায়ী তার বাসভবনের আশপাশেও নিরাপত্তা বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। 

উঠবেন ১৯৬ নম্বর বাড়িতে :
 দেশে ফেরার পর মা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার পাশেই গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তবে সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় মায়ের বাসভবন ফিরোজায়ও তার জন্য প্রস্তুত করা আছে ৩টি রুম। 

আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বলেন, ১৯৬ নম্বর বাড়ির সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। তারেক রহমানের জন্য তার মা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায়ও ৩টি কক্ষ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য মেডিকেল মোবাইল টিম গঠন করেছে বিএনপি। 

চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছেন ১০ লক্ষ লোক

বিএনপি নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলো থেকে কমপক্ষে ১০ লক্ষ লোক ঢাকায় যাবেন তারেক রহমান রহমানকে বরণ করতে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে যাবেন এক লক্ষ। দলের পক্ষ থেকে ভাড়া করা ট্রেন, বাস, মাইক্রো ও হাইয়েসে করে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা যাচ্ছেন তারা। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যাচ্ছেন অনেকে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তারেক রহমানই বিএনপির কান্ডারি। ফলে নেতার আগমনে তারা উজ্জীবিত। তাছাড়া যার হাত ধরে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে তার প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, দীর্ঘ ১৭–১৮ বছর পর তারেক রহমানকে দেশের মানুষ কাছে পাবেন। স্বাভাবিকভাবে মানুষ খুশিতে আত্মহারা। তারেক রহমান দেশে না থাকলেও নেতাকর্মীদের কাছাকাছি ছিলেন। অনলাইনে তার বক্তব্য শুনেছেন। এখন সবাই স্বচোখে দেখবেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষ উদ্‌গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন ২৫ ডিসেম্বরের জন্য।

বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর তারেক রহমান দেশে ছিলেন না। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে স্কাইপে দেখেছেন। আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সবার সামর্থ্য ছিল না লন্ডনে গিয়ে দেখে আসার। এখন তাকে সবাই সামনে থেকে দেখবেন। এটা নিয়ে সবার মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আছে। তিনি বলেন, আসলে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও রাজকীয় অভিষেককে ঘিরে যে উচ্ছ্বাস–উদ্দীপনা তা কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে।

চট্টগ্রাম–৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিযান বলেন, তারেক রহমানকে দেখার জন্য সারা দেশের মানুষ উদ্‌গ্রীব। তাই তাকে স্বাগত জানাতে সবাই ঢাকা ছুটছেন।

নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ পর লিডার আসছেন। ঈদের মতো খুশি লাগছে। দীর্ঘ সময় দেশে না থাকলেও বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের খবর রেখেছেন তিনি। মানুষকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাই মানুষ তাকে বরণ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলো থেকে ৭ থেকে ১০ লাখ যাবেন ঢাকায়। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকে লাখের উপর লোক যাবেন। মহানগর থেকেও যাবে। আমরা দুটি স্পেশাল ট্রেনও নিয়েছি। হাটহাজারী থেকে একশর বেশি বাস ও ৮৫টি মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়েছে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীদের উৎসাহ কেমন লক্ষ্য করছেন? এমন প্রশ্নে মীর হেলাল বলেন, উৎসাহটা এত প্রবল, আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে না। অনেকে ঢাকায় গিয়ে ৩০০ ফিটে বসে রয়েছে। অথচ মিটিং হবে আরো দুদিন পর। তাহলে দেখেন কি মারাত্মক উৎসাহ! সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের মানুষও উৎসাহ–উদ্দীপনার মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে বরণ করার জন্য অপেক্ষা করছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বরণ করার জন্য মহানগর থেকে কমপক্ষে ১৫ হাজার লোক ঢাকায় যাবেন। ইতোমধ্যে অনেকে ঢাকায় চলে গেছেন, অনেকে পথে আছেন। সর্বশেষ আগামীকাল রাতে (বুধবার) যাবেন।

পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, দুটি ট্রেনের সম্পূর্ণ, আরেকটির অর্ধেক টিকেট পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেন থেকেও টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহানগর থেকে ১০০টি বাস ও দেড়শ মাইক্রো ও হাইয়েস ভাড়া করা হয়েছে। এর বাইরে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকেও নিজ উদ্যোগে নেতাকর্মীরা বাস–মাইক্রোতে লোকজন নিয়ে যাবেন। এ রকম আরো ১০০ বাস ও শতাধিক মাইক্রো যাবে। আসলে যে হারে মানুষ যেতে চাচ্ছে গাড়ি না পাওয়ায় সেভাবে আমরা সাপোর্ট দিতে পারছি না।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে ২০ হাজার লোক ঢাকায় যাবেন। অনেকে ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছেন। যে যেভাবে পারছেন ছুটে যাচ্ছেন। ঢাকায় যাওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত (গত রাত ১০টা) ২৭০টির বেশি বাস এবং প্রায় ৫০০টি হাইয়েস ভাড়া করা হয়েছে। কালও তো সময় আছে। গাড়ির সংখ্যা আরো বাড়বে। আসলে যে পরিমাণ লোক যেতে চাচ্ছে তাদের বহন করার জন্য সেই পরিমাণ গাড়ি পাচ্ছি না। সব ভাড়া হয়ে গেছে। অনেকে ট্রাক–পিকআপে করে যেতে চাচ্ছেন। আসলে শীতের দিনে তাদের খোলা গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। এরপরও অনেকে স্ব–উদ্যোগে চলে যাবেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনার আয়োজন

তারেক রহমান কাল ফিরছেন, চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছেন ১০ লক্ষ লোক!

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দেশে ফিরছেন । এদিন দুপুরে দেশের মাটিতে পা রাখবেন তিনি। তার এই প্রত্যাবর্তনকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে বিএনপি।

প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। উপস্থিতির দিক দিয়ে অতীতের সব রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড ভাঙার প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা। ইতিমধ্যে সারা দেশ থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাদের দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান এবং গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বিপুল জনসমাগমের নজির রয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে যে উদ্দীপনা ও প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তাতে উপস্থিতির দিক দিয়ে অতীতের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে এই গণসংবর্ধনা। 

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সে কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই সংবর্ধনায় অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন জাগরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকায় আসা শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জেলা, উপজেলার নেতাকর্মীরা নিজেরাই ভাড়া করছেন বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস। প্রতি জেলা থেকে ৩০-৪০ হাজার, বিভাগ থেকে ৩-৪ লাখ নেতাকর্মী জড়ো করার টার্গেট রয়েছে দলটির। বুধবার থেকেই রাজধানীর চারপাশ থেকে ঢাকামুখী জনস্রোত শুরু হবে বলে আশা তাদের। 

ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান কয়েকবার দেশে এলেও তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। অবশেষে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর কুড়িলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে দলটি। সর্বোচ্চ জনসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো আয়োজন সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলের পাশাপাশি সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে দলটি। মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দফায় দফায় দলটির শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন। 

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সংবর্ধনায় অন্তত ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন তারা। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যও রয়েছে এই আয়োজনের পেছনে। মঙ্গলবার সংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। সেদিন তার সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। আশা করছি অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি হবে।’ 

জানা গেছে, সংবর্ধনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আজকের মধ্যে অনেকে চলে আসবেন ঢাকায়। দলের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এ ছাড়া ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে এদিনের কর্মসূচি সফল করবেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক : গত সোমবার বৈঠক করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈঠকে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে নেতারা আলোচনা করেন। এ সময় কেউ কেউ তারেক রহমানকে ঢাকা থেকে নির্বাচন করতে অনুরোধ জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। 

বৈঠক সূত্র জানায়, সমমনা দল ও জোটের আসন সমঝোতাসহ নিজ দলের বিতর্কিত আর দুর্বল প্রার্থীদের নিয়েও সভায় আলোচনা করেন। সেখানে মিত্র দলগুলোর আসন সমঝোতা অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে বলে দলের নেতারা জানান। তবে সারা দেশে বিতর্কিত আর দুর্বল প্রার্থীদের বিষয়ে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। 

বৈঠকে তারেক রহমানের সংবর্ধনার মঞ্চে কারা উপস্থিত থাকবেন সেটি নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সুপার ‘টু’ নেতারা থাকবেন। এর বাইরে জুলাই যোদ্ধা নিহত পরিবার ও আহত পরিবারের একজন করে সদস্য থাকবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, ঢাকার যেকোনো একটি আসন থেকে তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারেন। শনিবার তিনি ভোটার হবেন এবং তারপর সময়মতো তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। 

শাহজালালে পৌঁছেই যোগ দেবেন সংবর্ধনায় : দেশে পৌঁছার পর তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তারেক রহমানের সংবর্ধনার মঞ্চে সঙ্গী হবেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সংবর্ধনা শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। সেখান থেকে গুলশানে মায়ের বাসায় উঠবেন তারেক রহমান। 

শাহজালালে নিরাপত্তা জোরদার, যাত্রী ছাড়া প্রবেশ নিষেধ : তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তার আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার পুলিশ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বিকাল থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য। বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ব্যতীত সব ধরনের সহযাত্রী ও ভিজিটরের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এ প্রেক্ষিতে যাত্রী সাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বেবিচক কর্তৃপক্ষের পাঠানো অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমানবন্দর ও তার আশপাশ এলাকায় যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ ও বেআইনি। 

তারেক রহমানের প্রস্তুতি সম্পন্ন : বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২০ ফ্লাইটে টিকেট বুকিং করেছেন তিনি। ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটির বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচ সফরসঙ্গীর টিকেট বুকিং দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমান। এ ছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজন আছেন। 

সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তা : জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিন বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। তার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে। নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এ নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও বৈঠক করছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত তারেক রহমানকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তার বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। 

অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত হুমকির কথা উল্লেখ করে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নিরাপত্তার আবেদন করেছে দলটি। তবে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। গতকাল দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক হয়। 

এদিকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় অন্তত ৯টি চেকপোস্ট চালু রয়েছে। তারেক রহমানের আসার আগে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে, প্রয়োজন অনুযায়ী তার বাসভবনের আশপাশেও নিরাপত্তা বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। 

উঠবেন ১৯৬ নম্বর বাড়িতে :
 দেশে ফেরার পর মা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার পাশেই গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তবে সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় মায়ের বাসভবন ফিরোজায়ও তার জন্য প্রস্তুত করা আছে ৩টি রুম। 

আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বলেন, ১৯৬ নম্বর বাড়ির সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। তারেক রহমানের জন্য তার মা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায়ও ৩টি কক্ষ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য মেডিকেল মোবাইল টিম গঠন করেছে বিএনপি। 

চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছেন ১০ লক্ষ লোক

বিএনপি নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলো থেকে কমপক্ষে ১০ লক্ষ লোক ঢাকায় যাবেন তারেক রহমান রহমানকে বরণ করতে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে যাবেন এক লক্ষ। দলের পক্ষ থেকে ভাড়া করা ট্রেন, বাস, মাইক্রো ও হাইয়েসে করে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা যাচ্ছেন তারা। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যাচ্ছেন অনেকে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তারেক রহমানই বিএনপির কান্ডারি। ফলে নেতার আগমনে তারা উজ্জীবিত। তাছাড়া যার হাত ধরে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে তার প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, দীর্ঘ ১৭–১৮ বছর পর তারেক রহমানকে দেশের মানুষ কাছে পাবেন। স্বাভাবিকভাবে মানুষ খুশিতে আত্মহারা। তারেক রহমান দেশে না থাকলেও নেতাকর্মীদের কাছাকাছি ছিলেন। অনলাইনে তার বক্তব্য শুনেছেন। এখন সবাই স্বচোখে দেখবেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষ উদ্‌গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন ২৫ ডিসেম্বরের জন্য।

বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর তারেক রহমান দেশে ছিলেন না। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে স্কাইপে দেখেছেন। আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সবার সামর্থ্য ছিল না লন্ডনে গিয়ে দেখে আসার। এখন তাকে সবাই সামনে থেকে দেখবেন। এটা নিয়ে সবার মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আছে। তিনি বলেন, আসলে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও রাজকীয় অভিষেককে ঘিরে যে উচ্ছ্বাস–উদ্দীপনা তা কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে।

চট্টগ্রাম–৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিযান বলেন, তারেক রহমানকে দেখার জন্য সারা দেশের মানুষ উদ্‌গ্রীব। তাই তাকে স্বাগত জানাতে সবাই ঢাকা ছুটছেন।

নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ পর লিডার আসছেন। ঈদের মতো খুশি লাগছে। দীর্ঘ সময় দেশে না থাকলেও বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের খবর রেখেছেন তিনি। মানুষকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাই মানুষ তাকে বরণ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক জেলাগুলো থেকে ৭ থেকে ১০ লাখ যাবেন ঢাকায়। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকে লাখের উপর লোক যাবেন। মহানগর থেকেও যাবে। আমরা দুটি স্পেশাল ট্রেনও নিয়েছি। হাটহাজারী থেকে একশর বেশি বাস ও ৮৫টি মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়েছে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীদের উৎসাহ কেমন লক্ষ্য করছেন? এমন প্রশ্নে মীর হেলাল বলেন, উৎসাহটা এত প্রবল, আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে না। অনেকে ঢাকায় গিয়ে ৩০০ ফিটে বসে রয়েছে। অথচ মিটিং হবে আরো দুদিন পর। তাহলে দেখেন কি মারাত্মক উৎসাহ! সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের মানুষও উৎসাহ–উদ্দীপনার মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে বরণ করার জন্য অপেক্ষা করছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বরণ করার জন্য মহানগর থেকে কমপক্ষে ১৫ হাজার লোক ঢাকায় যাবেন। ইতোমধ্যে অনেকে ঢাকায় চলে গেছেন, অনেকে পথে আছেন। সর্বশেষ আগামীকাল রাতে (বুধবার) যাবেন।

পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, দুটি ট্রেনের সম্পূর্ণ, আরেকটির অর্ধেক টিকেট পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেন থেকেও টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহানগর থেকে ১০০টি বাস ও দেড়শ মাইক্রো ও হাইয়েস ভাড়া করা হয়েছে। এর বাইরে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকেও নিজ উদ্যোগে নেতাকর্মীরা বাস–মাইক্রোতে লোকজন নিয়ে যাবেন। এ রকম আরো ১০০ বাস ও শতাধিক মাইক্রো যাবে। আসলে যে হারে মানুষ যেতে চাচ্ছে গাড়ি না পাওয়ায় সেভাবে আমরা সাপোর্ট দিতে পারছি না।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে ২০ হাজার লোক ঢাকায় যাবেন। অনেকে ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছেন। যে যেভাবে পারছেন ছুটে যাচ্ছেন। ঢাকায় যাওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত (গত রাত ১০টা) ২৭০টির বেশি বাস এবং প্রায় ৫০০টি হাইয়েস ভাড়া করা হয়েছে। কালও তো সময় আছে। গাড়ির সংখ্যা আরো বাড়বে। আসলে যে পরিমাণ লোক যেতে চাচ্ছে তাদের বহন করার জন্য সেই পরিমাণ গাড়ি পাচ্ছি না। সব ভাড়া হয়ে গেছে। অনেকে ট্রাক–পিকআপে করে যেতে চাচ্ছেন। আসলে শীতের দিনে তাদের খোলা গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। এরপরও অনেকে স্ব–উদ্যোগে চলে যাবেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;