০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও মৃত্যুর ঘটনায় ফেরদৌস স্টিলের এমডির ক্ষমা প্রার্থনা, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান

সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’ পুরনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে ১০ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ। একই সাথে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত রোববার বিকেলে ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে ফেরদৌস ওয়াহিদ আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমরা ‘ফেরদৌস স্টিল ফ্যামিলি’ আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা অলান্ত চেষ্টা করেছি যাতে একটি নিরাপদ পরিবেশে শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, নিহত পরিবারগুলোর পাশে তারা সবসময় থাকবেন এবং ভবিষ্যতে যা প্রয়োজন তা সাধ্যমতো প্রদান করা হবে।

দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের কোনো দায় ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে সহকর্মীরা মারা গেছেন, এই দুর্ঘটনায় আমি কারো দোষ খুঁজে পাই না। গত ৩০-৪০ বছরে শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে এমন ঘটনার কোনো নজির নেই। এর জন্য আমরা একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না।” ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

ঘটনার কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না। রিপোর্ট পাওয়ার পর সবকিছু সবার সামনে উন্মুক্ত করা হবে।

ঝুঁকির ধরণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ সচরাচর দুর্ঘটনাগুলো ইঞ্জিন রুম বা পাম্প রুমে ঘটে থাকে। তবে এই জাহাজটিতে সম্ভাব্য বিপজ্জনক স্থানটি আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং ঝুঁকি ন্যূনতম করার চেষ্টা ছিল, তবুও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এক নতুন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সীতাকুণ্ডের প্রবাসী কামাল হোসেনের মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও মৃত্যুর ঘটনায় ফেরদৌস স্টিলের এমডির ক্ষমা প্রার্থনা, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’ পুরনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে ১০ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ। একই সাথে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত রোববার বিকেলে ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে ফেরদৌস ওয়াহিদ আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমরা ‘ফেরদৌস স্টিল ফ্যামিলি’ আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা অলান্ত চেষ্টা করেছি যাতে একটি নিরাপদ পরিবেশে শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, নিহত পরিবারগুলোর পাশে তারা সবসময় থাকবেন এবং ভবিষ্যতে যা প্রয়োজন তা সাধ্যমতো প্রদান করা হবে।

দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের কোনো দায় ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে সহকর্মীরা মারা গেছেন, এই দুর্ঘটনায় আমি কারো দোষ খুঁজে পাই না। গত ৩০-৪০ বছরে শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে এমন ঘটনার কোনো নজির নেই। এর জন্য আমরা একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না।” ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

ঘটনার কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না। রিপোর্ট পাওয়ার পর সবকিছু সবার সামনে উন্মুক্ত করা হবে।

ঝুঁকির ধরণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ সচরাচর দুর্ঘটনাগুলো ইঞ্জিন রুম বা পাম্প রুমে ঘটে থাকে। তবে এই জাহাজটিতে সম্ভাব্য বিপজ্জনক স্থানটি আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং ঝুঁকি ন্যূনতম করার চেষ্টা ছিল, তবুও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এক নতুন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;