দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, চট্টগ্রাম একাডেমি গত ২৫ বছর ধরে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে এখানকার সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। আজ এর পরিচিতি কেবল চট্টগ্রামের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, দেশ-বিদেশের সাহিত্য অনুরাগী মানুষের কাছেও সমাদৃত হচ্ছে। চট্টগ্রাম একাডেমি নিয়মিত নতুন লেখকদের পরিচর্যা, কৃতীদের মূল্যায়ন ও বইমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে, যা চট্টগ্রামকে সাহিত্য-সংস্কৃতির জায়গায় অনেক দূর এগিয়ে নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম একাডেমির ২৫ বছর পূর্তি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাত্মা গান্ধীর ঐতিহাসিক উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে এম এ মালেক বলেন, “চট্টগ্রাম সর্বাগ্রে”। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—সব সংগ্রামেই চট্টগ্রাম অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। এমনকি একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ রচনার গৌরবও এই চট্টগ্রামের। মাহবুবউল আলম চৌধুরীর ঐতিহাসিক এই কবিতাটি ছাপানোর অপরাধে তাদের প্রেস সিলগালা করা হয়েছিল এবং ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দৈনিক আজাদী দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে চট্টগ্রামের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক উত্তরণে অটল থেকে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম একাডেমির সভাপতি ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক রাশেদ রউফ, চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রীতা দত্ত, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অভীক ওসমান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল মান্নান রানা। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর মিঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন রজতজয়ন্তী উৎসবের সদস্য সচিব শারুদ নিজাম।
আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে কবি জিন্নাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘চট্টগ্রামের কবিতায় ছন্দ-নৈপুণ্য ও নিরীক্ষা’ শীর্ষক একটি সাহিত্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি খুরশীদ আনোয়ার, রিজোয়ান মাহমুদ ও আকতার হোসাইন। এরপর সৃষ্টি কালচারাল ইনস্টিটিউট ও দীপশিখা নৃত্য গোষ্ঠীর মনোজ্ঞ দলীয় নৃত্য এবং স্বরলিপি সাংস্কৃতিক ফোরামের পরিবেশনায় সংগীত অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে কবি মৃণালিনী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে স্থানীয় কবিদের অংশগ্রহণে এক কবিতা ও ছড়া পাঠের আসর বসে।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের দ্বিতীয় দিনে (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই একাধিক আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে ক্যাপ্টেন (অব.) উস্তাদ আজিজুল ইসলাম ও মিসেস খালেদা আউয়ালকে বিশেষ সম্মাননা প্রদানসহ ‘ওড়িশি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার’, ‘উঠোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ ও ‘বিশ্বভরা প্রাণ’ দলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















