১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে থমকে গেছে চট্টগ্রাম , সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন খাতে। নগর ও আশপাশের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, কমে গেছে চালকদের দৈনিক আয়, বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সোমবার গভীর রাতে নগরের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও গ্রাম ট্যাক্সি গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক চালক নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

গ্রাম ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও স্বাভাবিকভাবে গ্যাস পাওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিয়ে মাত্র ১৫০ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, এই গ্যাসে কতক্ষণ গাড়ি চলবে তা নিশ্চিত নন। গ্যাস শেষ হলে আবার একইভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে, না হলে পরিবারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

একই স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজি অটোরিকশাচালক মহিবুল্লাহ জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আনা-নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে লাইনের সামনে যাওয়ার সুযোগ পান এবং সীমিত পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, সময়মতো দায়িত্ব পালন করতে না পারলে আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আরেক অটোরিকশাচালক সাদেক আলী বলেন, দিনের বড় একটি অংশ এখন গ্যাসের লাইনে কাটছে। আগে যেখানে দিনে অনেক ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন তার অর্ধেকও সম্ভব হচ্ছে না। আয় কমে যাওয়ায় গাড়ির মালিকের দৈনিক জমা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন।

নগরের মইজ্জারটেক, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, হালিশহর, কদমতলী, জামালখান, আন্দরকিল্লা ও বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কয়েকশ মিটার, কোথাও প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি রয়েছে। দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

একাধিক চালক জানান, সরকারি নির্ধারিত সময়ে স্টেশন বন্ধ থাকার পাশাপাশি গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে স্টেশনগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই খালি সিলিন্ডার নিয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

গ্যাস সংকটের কারণে শুধু সিএনজি অটোরিকশা নয়, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও গ্রাম ট্যাক্সিচালকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যানবাহন সড়কে নামতে না পারায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরে গণপরিবহনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তীব্র হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন জেলাতেই গ্যাসের স্বল্পচাপের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক স্টেশন স্বাভাবিক চাপের তুলনায় অনেক কম গ্যাস পাচ্ছে। এতে স্টেশন পরিচালনা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি চালক ও সাধারণ মানুষও চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

এদিকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ মান্নান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত চালু করতে প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;’

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সীতাকুণ্ড প্রবাসী কামালের ইন্তেকাল

গ্যাস সংকটে থমকে গেছে চট্টগ্রাম , সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন খাতে। নগর ও আশপাশের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, কমে গেছে চালকদের দৈনিক আয়, বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সোমবার গভীর রাতে নগরের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও গ্রাম ট্যাক্সি গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক চালক নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

গ্রাম ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও স্বাভাবিকভাবে গ্যাস পাওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিয়ে মাত্র ১৫০ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, এই গ্যাসে কতক্ষণ গাড়ি চলবে তা নিশ্চিত নন। গ্যাস শেষ হলে আবার একইভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে, না হলে পরিবারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

একই স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজি অটোরিকশাচালক মহিবুল্লাহ জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আনা-নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে লাইনের সামনে যাওয়ার সুযোগ পান এবং সীমিত পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, সময়মতো দায়িত্ব পালন করতে না পারলে আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আরেক অটোরিকশাচালক সাদেক আলী বলেন, দিনের বড় একটি অংশ এখন গ্যাসের লাইনে কাটছে। আগে যেখানে দিনে অনেক ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন তার অর্ধেকও সম্ভব হচ্ছে না। আয় কমে যাওয়ায় গাড়ির মালিকের দৈনিক জমা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন।

নগরের মইজ্জারটেক, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, হালিশহর, কদমতলী, জামালখান, আন্দরকিল্লা ও বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কয়েকশ মিটার, কোথাও প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি রয়েছে। দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

একাধিক চালক জানান, সরকারি নির্ধারিত সময়ে স্টেশন বন্ধ থাকার পাশাপাশি গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে স্টেশনগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই খালি সিলিন্ডার নিয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

গ্যাস সংকটের কারণে শুধু সিএনজি অটোরিকশা নয়, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও গ্রাম ট্যাক্সিচালকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যানবাহন সড়কে নামতে না পারায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরে গণপরিবহনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তীব্র হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন জেলাতেই গ্যাসের স্বল্পচাপের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক স্টেশন স্বাভাবিক চাপের তুলনায় অনেক কম গ্যাস পাচ্ছে। এতে স্টেশন পরিচালনা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি চালক ও সাধারণ মানুষও চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

এদিকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ মান্নান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত চালু করতে প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;’