বিশিষ্ট চক্ষুবিশেষজ্ঞ ডা. রবিউল হোসেনের মৃত্যুর ৪০ দিন পার হওয়ার আগেই তার প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন তার দুই পুত্র। পিতারা রেখে যাওয়া ‘সাম্রাজ্য’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এক ভাই অপর ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। এই ঘটনায় ডা. রবিউল হোসেনের ঘনিষ্ঠজন এবং চিকিৎসামহলে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৭ জুন, ২০২৬ তারিখে ডা. রবিউল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পুত্র ডা. রাজিব হোসেন ও রিয়াজ হোসেনের এই দ্বন্দ্বে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
জানা গেছে, জীবদ্দশায় ডা. রবিউল হোসেন পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের অভ্যন্তরে এবং এর ট্রাস্টকে কেন্দ্র করে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন। তার আশা ছিল, দুই পুত্রকে দুই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এর অংশ হিসেবে কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা যাচাই না করে রিয়াজ হোসেনকে চার লাখ টাকা বেতন ও অন্যান্য সুবিধাসহ ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগকারী হাসপাতালের পরিচালকেরা রিয়াজ হোসেনকে পরবর্তীতে বহিষ্কার করেন। এ নিয়ে ডা. রবিউল হোসেনের জীবদ্দশায়ও বিভিন্ন সময়ে নানা বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা হয়েছিল।
পিতার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছে। ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের পদ থেকে ভাই ডা. রাজিব হোসেনকে বাদ দিয়ে নিজেকে পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হাইকোর্টে কোম্পানি ম্যাটার মামলা নম্বর-৫১২/২০২৬ রুজু করেছেন রিয়াজ হোসেন।
মামলাটিতে বাদী হয়েছেন রিয়াজ হোসেন, ডা. কাজী মোহাম্মদ অহিদুল আলম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান এবং রেজোয়ান শাহিদী। অন্যদিকে ডা. রাজিব হোসেন ছাড়াও ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিদ নবী, এম এ মালেক, ওয়াহিদ মালেক ও সিএফও-কে এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনটিতে বর্তমান বোর্ড অব ডিরেক্টর্স থেকে এম এ মালেক, ওয়াহিদ মালেক, ডা. রাজিব হোসেন, শওকত হোসেন, রবিউল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ডা. অহিদুল আলমের নাম বাদ দিয়ে নতুন সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
হাইকোর্টের বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৬ আগস্ট ডা. রাজিব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছেন।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















