চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে এক যুবককে অপহরণ করে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ইরানকে (৪৫) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে ক্ষুব্ধ জনতা। একই সঙ্গে তার বাড়িঘর ও আস্তানা হিসেবে পরিচিত একাধিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ইয়াবা নিয়ে বিরোধের জেরে ইরান ও তার সহযোগীরা এলাকার দুই যুবক নাঈম ও ইমরানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে নাঈমকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। অপরদিকে ইমরানকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ জুলাই নাঈম মারা যান। ইমরানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে তার পরিবার দাবি করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার বিকেলে নাঈমের জানাজা শেষে মাইকে ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপর চার গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে তাকে খুঁজে বের করে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করে।
এরপর উত্তেজিত জনতা ইরানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং তার আস্তানা হিসেবে পরিচিত ১০ থেকে ১২টি ঘর ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়।
নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক বলেন, “নাঈম খুবই দরিদ্র পরিবারের ছেলে ছিল। তাকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে ইমরানের মা হাসিনা বেগম জানান, ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেলেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানাজা শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ইরানকে হত্যা করে। পাশাপাশি তার বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত ১০-১২টি ঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নাঈম হত্যা এবং পরবর্তী গণপিটুনি, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর—উভয় ঘটনার তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















