চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে স্কুল থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আনিশা (১২)কে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন আনিশাকে উদ্ধার করে তার পরিচয় জানতে পারেন এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে আনিশার বাবা ও স্বজনরা বুড়িচংয়ে গিয়ে শুক্রবার ভোরে তাকে উদ্ধার করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ ঘটনায় জড়িত পরিচিত এক যুবককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে সন্দ্বীপ আনন্দ পাঠশালা স্কুল ছুটির পর আনিশা নিখোঁজ হয়। পরে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ির পাশের একটি মুরগির খামারে কর্মরত এবং পরিবারের পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে সে স্কুলগেট ত্যাগ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই যুবক মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই সন্দ্বীপ থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অটোরিকশাচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আনিশাকে নিয়ে সন্দ্বীপ ছেড়ে চট্টগ্রামের দিকে যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনুসন্ধান আরও জোরদার হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের একটি সার্ভিস ট্রলারে স্কুলড্রেস পরা আনিশাকে তিনি দেখেছিলেন, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটিকে কোনো ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক অবস্থায় সীতাকুণ্ড হয়ে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে অপহরণের পেছনের কারণ এবং ঘটনার অন্যান্য দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















