ত্রাণ নিয়ে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী থেকে বন্যাদুর্গত বাঁশখালীতে যাওয়ার পথে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে ত্রাণসামগ্রী লুট, ওষুধ ড্রেনে ফেলে দেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও জনতা সমন্বয় পরিষদ (এসটিপি অ্যাসোসিয়েশন) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মো. রবিন। তিনি বলেন, তাদের সংগঠন একটি মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সংগঠনের নিজস্ব তহবিল এবং মানুষের দেওয়া অনুদানে সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী ও ওষুধ নিয়ে তারা বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ভাটিয়ারী স্টেশন রোড এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়াজ গাজীর বাড়ি এলাকায় পৌঁছালে কাটুইজ্জে বাড়ির রানা, তার ভাই হারুনসহ ৮ থেকে ১০ জন তাদের পথরোধ করে। এ সময় তারা ত্রাণ নিয়ে যেতে হলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ওষুধভর্তি বাক্স কেড়ে নিয়ে ড্রেনের ময়লা পানিতে ফেলে দেয়। প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং সঙ্গে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিন আরও বলেন, হামলায় সংগঠনের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত রানা ও হারুন স্থানীয় একটি মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইরফান, মো. শাফায়াত, মো. সরওয়ার, মো. ইমরান, মো. জিহাদ, মো. রবি, মো. আশরাফুল, মো. মুরাদসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;




















