১২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল্লাহর নৈকট্য প্রদান করে মানুষের যে তিন গুণ

  • ইসলাম ডেস্ক ।।
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮১ শেয়ার

এমন কিছু গুনাহ মানুষ করে, যা ক্ষুদ্র মনে হলেও আখিরাতে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আবার এমন কিছু পবিত্র অবস্থাও আছে, যা বান্দাকে মৃত্যুর মুহূর্তেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের দলভুক্ত করে দেয়। নিচের হাদিসটি এমনই একটি মৌলিক উপদেশ—যা তিনটি ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে জান্নাতের নিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করে-

عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ‏ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم “‏ مَنْ مَاتَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلاَثٍ الْكِبْرِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏”‏

সাওবান (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক তিনটি বিষয়ে অর্থাৎ অহংকার, গানীমাতের সম্পদ আত্মসাৎ ও ঋণ হতে মুক্ত অবস্থায় মারা গেল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস :১৫৭২)

হাদিসের মৌলিক বার্তা

মানুষের সমগ্র জীবনই মূলত এমন এক নৈতিক যাত্রা; যেখানে তার চরিত্র, সততা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মসম্মান সবকিছু মিলিয়ে ব্যক্তির পরিণতি নির্ধারিত হয়।

ইসলামী শরিয়ত প্রত্যেক মানুষের অন্তর, আচরণ ও আমলকে পরিশুদ্ধ করার জন্য কিছু অপরিহার্য নীতি তুলে ধরেছে। সাওবান (রা.)–এর বর্ণিত এই হাদিসটিও সেই আদর্শিক নির্দেশনারই অংশ, যেখানে মহনবী (সা.) মানুষের জীবনের তিনটি সবচেয়ে বিপজ্জনক দোষ থেকে মুক্ত থাকার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

এ তিনটি দোষ সাধারণ মনে হলেও সেগুলো মানুষের নৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। তাই হাদিসটি শুধু একটি নিষেধ–নির্দেশ নয়; বরং মানবজীবনের নৈতিক রূপরেখাও বটে।

১. অহংকার: আত্মিক পতনের মূল উৎস

অহংকার এমন এক অভ্যন্তরীণ রোগ, যা মানুষের সত্য গ্রহণের ক্ষমতাকে অচল করে দেয়। অহংকারের কারণে মানুষ অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, নিজের ভুল স্বীকারে অনাগ্রহী হয়ে যায় এক সময় আল্লাহর সামনে বিনয়ী হতেও সে অনিহা প্রকাশ করে। কাজেই অহংকার থেকে মুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা মানে এমন এক অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে হাজির হওয়া, যেখানে কোনো বিদ্রোহ, কোনো গর্ব, কোনো ঔদ্ধত্য নেই।

২. গনীমাত আত্মসাৎ: অমানত ভঙ্গের ভয়াবহ রূপ

গানীমাত ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা কঠোর বিধান অনুযায়ী বণ্টন করা হতো।

কাঙ্ক্ষিত অনুমতি ছাড়া এ সম্পদ ব্যবহার করা শুধু চুরিই নয়; বরং পুরো উম্মাহর হকের বিরুদ্ধে অপরাধ। সেখান থেকেই আজকের প্রেক্ষাপটে বলা যায়; যে ব্যক্তি মৃত্যুর আগে নিজের জীবনকে অমানতভঙ্গ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র রাখতে পারে, তার সততা ও নৈতিকতা আল্লাহর নিকট বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

৩. ঋণমুক্ত মৃত্যু: জবাবদিহিমুক্ত আত্মা

ইসলাম ঋণের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে। কারো উপর ঋণ থাকা মানে তার ওপর মানুষের হক বাকি থাকা। এমনকি শহীদ হয়েও কেউ ঋণমুক্ত না হলে তার রূহকে আটকে রাখা হয়।

কাজেই ঋণ শোধ করে, অন্যের হক পরিশোধ করে, দায়িত্ব সম্পন্ন করে মৃত্যুবরণ করা হলো আল্লাহর সামনে হালকা, পবিত্র ও নির্ভার হয়ে দাঁড়ানো।

হাদীসের তিনটি বিষয়—অহংকার, খেয়ানত এবং ঋণ—মানবজীবনের তিনটি দিককে প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে অহংকার নষ্ট করে আত্মিক ও নৈতিকতা। গনীমাত আত্মসাৎ নষ্ট করে সততা ও সমাজিক বিশ্বাসযোগ্যতা। ঋণ প্রভাবিত করে মানবিক সম্পর্ক ও জবাবদিহিতা। এ তিন দিক সঠিক থাকলে মানুষের জীবন আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং মৃত্যু হয় এমন অবস্থায় যে সে জান্নাতের দরজার কাছাকাছি অবস্থায় পৌছে গিয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে এসব ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থেকে জীভন পরিচালনার তাওফিক দান করুন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

আল্লাহর নৈকট্য প্রদান করে মানুষের যে তিন গুণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

এমন কিছু গুনাহ মানুষ করে, যা ক্ষুদ্র মনে হলেও আখিরাতে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আবার এমন কিছু পবিত্র অবস্থাও আছে, যা বান্দাকে মৃত্যুর মুহূর্তেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের দলভুক্ত করে দেয়। নিচের হাদিসটি এমনই একটি মৌলিক উপদেশ—যা তিনটি ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে জান্নাতের নিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করে-

عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ‏ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم “‏ مَنْ مَاتَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلاَثٍ الْكِبْرِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏”‏

সাওবান (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক তিনটি বিষয়ে অর্থাৎ অহংকার, গানীমাতের সম্পদ আত্মসাৎ ও ঋণ হতে মুক্ত অবস্থায় মারা গেল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস :১৫৭২)

হাদিসের মৌলিক বার্তা

মানুষের সমগ্র জীবনই মূলত এমন এক নৈতিক যাত্রা; যেখানে তার চরিত্র, সততা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মসম্মান সবকিছু মিলিয়ে ব্যক্তির পরিণতি নির্ধারিত হয়।

ইসলামী শরিয়ত প্রত্যেক মানুষের অন্তর, আচরণ ও আমলকে পরিশুদ্ধ করার জন্য কিছু অপরিহার্য নীতি তুলে ধরেছে। সাওবান (রা.)–এর বর্ণিত এই হাদিসটিও সেই আদর্শিক নির্দেশনারই অংশ, যেখানে মহনবী (সা.) মানুষের জীবনের তিনটি সবচেয়ে বিপজ্জনক দোষ থেকে মুক্ত থাকার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

এ তিনটি দোষ সাধারণ মনে হলেও সেগুলো মানুষের নৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। তাই হাদিসটি শুধু একটি নিষেধ–নির্দেশ নয়; বরং মানবজীবনের নৈতিক রূপরেখাও বটে।

১. অহংকার: আত্মিক পতনের মূল উৎস

অহংকার এমন এক অভ্যন্তরীণ রোগ, যা মানুষের সত্য গ্রহণের ক্ষমতাকে অচল করে দেয়। অহংকারের কারণে মানুষ অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, নিজের ভুল স্বীকারে অনাগ্রহী হয়ে যায় এক সময় আল্লাহর সামনে বিনয়ী হতেও সে অনিহা প্রকাশ করে। কাজেই অহংকার থেকে মুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা মানে এমন এক অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে হাজির হওয়া, যেখানে কোনো বিদ্রোহ, কোনো গর্ব, কোনো ঔদ্ধত্য নেই।

২. গনীমাত আত্মসাৎ: অমানত ভঙ্গের ভয়াবহ রূপ

গানীমাত ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা কঠোর বিধান অনুযায়ী বণ্টন করা হতো।

কাঙ্ক্ষিত অনুমতি ছাড়া এ সম্পদ ব্যবহার করা শুধু চুরিই নয়; বরং পুরো উম্মাহর হকের বিরুদ্ধে অপরাধ। সেখান থেকেই আজকের প্রেক্ষাপটে বলা যায়; যে ব্যক্তি মৃত্যুর আগে নিজের জীবনকে অমানতভঙ্গ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র রাখতে পারে, তার সততা ও নৈতিকতা আল্লাহর নিকট বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

৩. ঋণমুক্ত মৃত্যু: জবাবদিহিমুক্ত আত্মা

ইসলাম ঋণের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে। কারো উপর ঋণ থাকা মানে তার ওপর মানুষের হক বাকি থাকা। এমনকি শহীদ হয়েও কেউ ঋণমুক্ত না হলে তার রূহকে আটকে রাখা হয়।

কাজেই ঋণ শোধ করে, অন্যের হক পরিশোধ করে, দায়িত্ব সম্পন্ন করে মৃত্যুবরণ করা হলো আল্লাহর সামনে হালকা, পবিত্র ও নির্ভার হয়ে দাঁড়ানো।

হাদীসের তিনটি বিষয়—অহংকার, খেয়ানত এবং ঋণ—মানবজীবনের তিনটি দিককে প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে অহংকার নষ্ট করে আত্মিক ও নৈতিকতা। গনীমাত আত্মসাৎ নষ্ট করে সততা ও সমাজিক বিশ্বাসযোগ্যতা। ঋণ প্রভাবিত করে মানবিক সম্পর্ক ও জবাবদিহিতা। এ তিন দিক সঠিক থাকলে মানুষের জীবন আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং মৃত্যু হয় এমন অবস্থায় যে সে জান্নাতের দরজার কাছাকাছি অবস্থায় পৌছে গিয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে এসব ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থেকে জীভন পরিচালনার তাওফিক দান করুন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;