১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য কর্মকর্তা সেজে ত্রাণের নামে প্রতারণা, সীতাকুণ্ডে বন্যাদুর্গতদের টাকা আত্মসাৎ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্যাদুর্গতদের সরকারি অনুদান ও ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশনের নামে ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে দেওয়া এই ফাঁদে পা দিয়ে চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন এলাকার অসহায় মানুষ। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা প্রশাসন ও পিআইও কার্যালয় শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে। মানুষের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ইউনিয়নে যোগাযোগ শুরু করে। তারা নিজেদের চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ‘তানভীর হাসান’ ও ‘এস এম মাসুদ’ পরিচয় দিয়ে জানায়, বন্যাদুর্গতদের নগদ ১০ হাজার টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হবে।

এজন্য তারা স্থানীয়দের মাধ্যমে একটি তালিকা তৈরি করায় এবং অনুদান পেতে জনপ্রতি ৪২০ টাকা করে বিকাশ নম্বরে রেজিস্ট্রেশন ফি পাঠাতে বলে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের যুবক সোহেল ১৬ হাজার ২০০ টাকা, মুরাদপুর ইউনিয়নের ফারুক ৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং সৈয়দপুরের মানিক ৬ হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ২৯ হাজার টাকা প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে পাঠান। টাকা পাঠানোর পরপরই প্রতারকদের মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তখন ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রাজীব কুমার দে জানান, চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগে তানভীর হাসান বা এস এম মাসুদ নামে কোনো কর্মকর্তা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, খাদ্য অফিস থেকে সরাসরি কাউকে নগদ টাকা বা ত্রাণ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই ত্রাণ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করা হয়। দুর্যোগের সময়েও যারা এমন প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি ত্রাণ বা সহযোগিতার জন্য কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। সমস্ত ত্রাণ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।” এই ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, যেকোনো সাহায্যের নামে কেউ টাকা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি ইউএনও-র সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে বাইকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু

খাদ্য কর্মকর্তা সেজে ত্রাণের নামে প্রতারণা, সীতাকুণ্ডে বন্যাদুর্গতদের টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্যাদুর্গতদের সরকারি অনুদান ও ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশনের নামে ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে দেওয়া এই ফাঁদে পা দিয়ে চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন এলাকার অসহায় মানুষ। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা প্রশাসন ও পিআইও কার্যালয় শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে। মানুষের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ইউনিয়নে যোগাযোগ শুরু করে। তারা নিজেদের চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ‘তানভীর হাসান’ ও ‘এস এম মাসুদ’ পরিচয় দিয়ে জানায়, বন্যাদুর্গতদের নগদ ১০ হাজার টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হবে।

এজন্য তারা স্থানীয়দের মাধ্যমে একটি তালিকা তৈরি করায় এবং অনুদান পেতে জনপ্রতি ৪২০ টাকা করে বিকাশ নম্বরে রেজিস্ট্রেশন ফি পাঠাতে বলে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের যুবক সোহেল ১৬ হাজার ২০০ টাকা, মুরাদপুর ইউনিয়নের ফারুক ৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং সৈয়দপুরের মানিক ৬ হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ২৯ হাজার টাকা প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে পাঠান। টাকা পাঠানোর পরপরই প্রতারকদের মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তখন ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রাজীব কুমার দে জানান, চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগে তানভীর হাসান বা এস এম মাসুদ নামে কোনো কর্মকর্তা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, খাদ্য অফিস থেকে সরাসরি কাউকে নগদ টাকা বা ত্রাণ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই ত্রাণ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করা হয়। দুর্যোগের সময়েও যারা এমন প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি ত্রাণ বা সহযোগিতার জন্য কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। সমস্ত ত্রাণ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।” এই ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, যেকোনো সাহায্যের নামে কেউ টাকা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি ইউএনও-র সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;