চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ডে চার দিনের টানা ভারী বর্ষণের জেরে পৃথক দুটি স্থানে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। মাটির নিচে চাপা পড়ে ১০ মাস বয়সী এক দুগ্ধপোষ্য শিশু এবং ১৩ বছরের এক কিশোরীর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এবং দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিল এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, আজ সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ী এলাকার ৬ নম্বর সমাজে একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে নিচে থাকা বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা ১০ মাস বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর ঘটনাস্থলেই মাটিচাপা পড়ে মারা যায়। এ সময় তার মা লামিয়া আক্তার (২০) মাটির নিচে আটকে গুরুতর আহত হন। পরে প্রতিবেশীরা এসে মাটি সরিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান। নিহত তানভীর ওই এলাকার বাসিন্দা মঈন উদ্দিনের ছেলে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আমরা কয়েক দিন ধরে দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং করে আসছি। কিন্তু অনেকেই এই সতর্কতা আমল না নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থেকে গেছেন। নিহত শিশুর মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় আরেকটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। সেখানে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ঘরের ওপর মাটি ধসে পড়লে সামিয়া ইসলাম (১৩) নামের এক কিশোরী আটকা পড়ে।
খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, পাহাড়ের ভারী মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই কিশোরীটির মৃত্যু হয়। দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাটির স্তূপ সরিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। কিশোরী সামিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আবহাওয়া অফিসের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাসের মধ্যেই পাহাড় ধসে প্রাণহানির এই দুটি ঘটনা প্রশাসনের উদ্ধার তৎপরতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসতি সরানোর স্থায়ী সমাধান নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















