০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে চার দিনে তিন লাশ , হত্যা না আত্মহত্যা? ধোঁয়াশা কাটেনি

সীতাকুণ্ড উপজেলায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুই গৃহবধূ ও এক ইমামের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একে একে তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং জনমনে গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার ( ২৬ জুন ) রাতে ইসরাত জাহান সামিয়া (১৯): সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াপাড়া (ফকিরহাট) এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে এই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি প্রবাসী মো. শাহিনের স্ত্রী। নিহতের পরিবারের দাবি, স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার কথা থাকায় সামিয়া শুক্রবার বিকালে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। রাতেই তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সামিয়া আত্মহত্যা করতে পারেন না; তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে।

একদিকে নাসরীন আক্তার (২৫): গত বৃহস্পতিবার কুমিরা রাজাপুর গ্রামে এই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তার স্বামী নুরনবীর দাবি, নাসরীন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নাসরীনের ভাই থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, সন্তান না হওয়ার কারণে স্বামী নুরনবী তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন এবং তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। তালাক দিতে রাজি না হওয়ায় নাসরীনকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের দাবি।

অন্যদিকে আমীর হোসেন (৩৮): গত বুধবার উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জোড়আমতল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। মসজিদের দোতলায় ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

এসব অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “ইসরাত জাহান সামিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

থানায় কর্মরত ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, তিনটি লাশই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

মাত্র চার দিনে তিনজনের এমন মৃত্যুতে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

সীতাকুণ্ডে চার দিনে তিন লাশ , হত্যা না আত্মহত্যা? ধোঁয়াশা কাটেনি

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপজেলায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুই গৃহবধূ ও এক ইমামের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একে একে তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং জনমনে গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার ( ২৬ জুন ) রাতে ইসরাত জাহান সামিয়া (১৯): সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াপাড়া (ফকিরহাট) এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে এই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি প্রবাসী মো. শাহিনের স্ত্রী। নিহতের পরিবারের দাবি, স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার কথা থাকায় সামিয়া শুক্রবার বিকালে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। রাতেই তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সামিয়া আত্মহত্যা করতে পারেন না; তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে।

একদিকে নাসরীন আক্তার (২৫): গত বৃহস্পতিবার কুমিরা রাজাপুর গ্রামে এই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তার স্বামী নুরনবীর দাবি, নাসরীন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নাসরীনের ভাই থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, সন্তান না হওয়ার কারণে স্বামী নুরনবী তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন এবং তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। তালাক দিতে রাজি না হওয়ায় নাসরীনকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের দাবি।

অন্যদিকে আমীর হোসেন (৩৮): গত বুধবার উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জোড়আমতল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। মসজিদের দোতলায় ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

এসব অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “ইসরাত জাহান সামিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

থানায় কর্মরত ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, তিনটি লাশই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

মাত্র চার দিনে তিনজনের এমন মৃত্যুতে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;