চট্টগ্রামে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে এ সভার আয়োজন করা হয়.
সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রামের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম আদালত হলো স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধগুলো দ্রুত, সহজ এবং অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির একটি অন্যতম কার্যকর আইনি ব্যবস্থা。 এই আদালতে বিচারপ্রার্থীদের কোনো আইনজীবী নিয়োগ করার প্রয়োজন হয় না, ফলে তারা নিজেরাই সরাসরি নিজেদের বক্তব্য ও যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেন।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের একটি বড় অংশ এখনো গ্রাম আদালতের এই চমৎকার সেবা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নয়। জনগণ যদি সচেতন না হয়, তবে সরকারের এই যুগান্তকারী সেবার সুফল নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এই লক্ষ্যে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং গ্রাম আদালত বিষয়ক মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল প্রচারণা উপকরণ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. আমিরুল মোস্তফা বলেন, গ্রাম আদালতে কোন কোন দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিষয়গুলোর বিচার করা সম্ভব, তা সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে ব্যানার, ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারণার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, সব ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র জায়গা হলো পুলিশ বা থানা। অথচ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমেই ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধগুলো খুব সহজেই আইনিভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এই বিষয়ে জনগণের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে ব্যাপক প্রচারণার কোনো বিকল্প নেই।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মদ সভায় আশ্বাস দেন যে, গ্রাম আদালত বিষয়ের এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রচারণা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাঠপর্যায়ে জোরদার করতে তিনি সকল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রচারণামূলক কার্যক্রমের বার্ষিক পরিকল্পনা ও বর্তমান অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল বাশার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমের সাথে গ্রাম আদালতের সচেতনতামূলক বার্তাকে যুক্ত করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিচারিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশে সভার সমাপ্তি ঘটে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















