০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পতেঙ্গায় সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তথ্য গুমের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, দ্রুত তৎপরতায় ওসি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ‘ডেইলী প্রেজেন্ট টাইমসের’ সাংবাদিক মোঃ শাহরিয়ার রিপন ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। আত্মহত্যার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়েন। হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি তার পেশাগত সরঞ্জাম কেড়ে নিয়ে তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও, পতেঙ্গা থানার ওসির দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

গত ২২ জুন ২০২৬ রাতে পতেঙ্গার বিজয়নগর এলাকায় একটি আত্মহত্যার খবর পেয়ে সত্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাংবাদিক মোঃ শাহরিয়ার রিপন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে মোঃ ইলিয়াস, তার ছেলে মোঃ শুভ এবং তাদের সঙ্গে থাকা ২০-৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হয়। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তারা তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে তাকে চতুর্থ তলা থেকে নিচে নামিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

হামলাকারীরা শুধু তাকে শারীরিকভাবেই লাঞ্ছিত করেনি, বরং তার ব্যবহৃত মিনি ক্যামেরা, মোবাইল ও আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। নির্মমতার মাত্রা ছাড়িয়ে তারা ক্যামেরা থেকে মেমোরি কার্ডটি সরিয়ে ফেলে এবং মোবাইল ফোনটি ফরম্যাট করে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় ধারণকৃত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সত্য যাতে প্রকাশ না পায়, সেজন্যই এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এই দুঃসময়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ পারভেজ আহমদ। খবর পাওয়া মাত্রই কোনো কালক্ষেপণ না করে মুমূর্ষু অবস্থায় সাংবাদিক রিপনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার ভূমিকা স্থানীয় সাংবাদিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ওসি মোঃ পারভেজ আহমদ দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না—এটিই আমাদের বর্তমান অঙ্গীকার।”

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা ও তথ্য গুমের ঘটনায় চট্টগ্রামসহ পুরো গণমাধ্যম কর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ওসির প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ওসির এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম কর্মীরা নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ঘটনাটি পতেঙ্গা এলাকার সচেতন মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

পতেঙ্গায় সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তথ্য গুমের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, দ্রুত তৎপরতায় ওসি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ‘ডেইলী প্রেজেন্ট টাইমসের’ সাংবাদিক মোঃ শাহরিয়ার রিপন ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। আত্মহত্যার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়েন। হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি তার পেশাগত সরঞ্জাম কেড়ে নিয়ে তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও, পতেঙ্গা থানার ওসির দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

গত ২২ জুন ২০২৬ রাতে পতেঙ্গার বিজয়নগর এলাকায় একটি আত্মহত্যার খবর পেয়ে সত্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাংবাদিক মোঃ শাহরিয়ার রিপন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে মোঃ ইলিয়াস, তার ছেলে মোঃ শুভ এবং তাদের সঙ্গে থাকা ২০-৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হয়। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তারা তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে তাকে চতুর্থ তলা থেকে নিচে নামিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

হামলাকারীরা শুধু তাকে শারীরিকভাবেই লাঞ্ছিত করেনি, বরং তার ব্যবহৃত মিনি ক্যামেরা, মোবাইল ও আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। নির্মমতার মাত্রা ছাড়িয়ে তারা ক্যামেরা থেকে মেমোরি কার্ডটি সরিয়ে ফেলে এবং মোবাইল ফোনটি ফরম্যাট করে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় ধারণকৃত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সত্য যাতে প্রকাশ না পায়, সেজন্যই এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এই দুঃসময়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ পারভেজ আহমদ। খবর পাওয়া মাত্রই কোনো কালক্ষেপণ না করে মুমূর্ষু অবস্থায় সাংবাদিক রিপনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও পেশাদার ভূমিকা স্থানীয় সাংবাদিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ওসি মোঃ পারভেজ আহমদ দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না—এটিই আমাদের বর্তমান অঙ্গীকার।”

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা ও তথ্য গুমের ঘটনায় চট্টগ্রামসহ পুরো গণমাধ্যম কর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ওসির প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ওসির এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম কর্মীরা নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ঘটনাটি পতেঙ্গা এলাকার সচেতন মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;