০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুরকে আর ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ হতে দেওয়া হবে না

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরকে আর অপরাধীদের আস্তানা বা ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। একই সাথে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (১৭ মে) সকালে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় এসপি মাসুদ আলম বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সেখানে পুলিশ একাডেমি করার কথা বলেছেন। বর্তমানে সেখানে দুটি স্কুলে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটি প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন স্থায়ীভাবে পুলিশ একাডেমি ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হলে সেখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সেখানে একটি পক্ষকে উচ্ছেদ করে অন্য কোনো পক্ষ যাতে নতুন করে অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে জেলা পুলিশ প্রধান বলেন, “চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাউজান ও তার আশপাশের পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় টার্গেট কিলিং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সমন্বয়ে বড় পরিসরে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।” এছাড়া কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে আসা ইয়াবার বিস্তার রোধে চট্টগ্রামের সব সড়ক ও মহাসড়কে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

আসন্ন ঈদুল আজহা ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এসপি বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫০টি পশুর হাট রয়েছে। পশুর হাট ও পশু পরিবহনে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে মহাসড়কে কাজ করবে, যাতে কোনো ধরনের ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটে। জাল টাকার কারবার রোধে হাটে নজরদারি থাকবে এবং কোনো ব্যবসায়ী বড় অঙ্কের টাকা বহনে নিরাপত্তা চাইলে পুলিশ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে তথ্যের দ্রুত প্রসারের কথা উল্লেখ করে নতুন এসপি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যেকোনো বড় অভিযান বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তথ্য আমরা দ্রুত আপনাদের (গণমাধ্যমকে) জানানোর চেষ্টা করব। জনগণের আস্থা অর্জনে গণমাধ্যম আমাদের অন্যতম প্রধান অংশীদার। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।”

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

জঙ্গল সলিমপুরকে আর ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ হতে দেওয়া হবে না

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরকে আর অপরাধীদের আস্তানা বা ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। একই সাথে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (১৭ মে) সকালে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় এসপি মাসুদ আলম বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সেখানে পুলিশ একাডেমি করার কথা বলেছেন। বর্তমানে সেখানে দুটি স্কুলে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটি প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন স্থায়ীভাবে পুলিশ একাডেমি ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হলে সেখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সেখানে একটি পক্ষকে উচ্ছেদ করে অন্য কোনো পক্ষ যাতে নতুন করে অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে জেলা পুলিশ প্রধান বলেন, “চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাউজান ও তার আশপাশের পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় টার্গেট কিলিং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সমন্বয়ে বড় পরিসরে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।” এছাড়া কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে আসা ইয়াবার বিস্তার রোধে চট্টগ্রামের সব সড়ক ও মহাসড়কে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

আসন্ন ঈদুল আজহা ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এসপি বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫০টি পশুর হাট রয়েছে। পশুর হাট ও পশু পরিবহনে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে মহাসড়কে কাজ করবে, যাতে কোনো ধরনের ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটে। জাল টাকার কারবার রোধে হাটে নজরদারি থাকবে এবং কোনো ব্যবসায়ী বড় অঙ্কের টাকা বহনে নিরাপত্তা চাইলে পুলিশ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে তথ্যের দ্রুত প্রসারের কথা উল্লেখ করে নতুন এসপি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যেকোনো বড় অভিযান বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তথ্য আমরা দ্রুত আপনাদের (গণমাধ্যমকে) জানানোর চেষ্টা করব। জনগণের আস্থা অর্জনে গণমাধ্যম আমাদের অন্যতম প্রধান অংশীদার। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।”

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;