০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ওপেন সিক্রেট’ মামলা বাণিজ্য, দুই এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আইজিপিকে অভিযোগ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা মামলা এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন—এসআই পরিমল, এএসআই হারুন রশিদ এবং কনস্টেবল মেহেদী।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় এক ধরনের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নিরীহ মানুষকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের মতো ঘটনা এখন ওই এলাকায় ‘ওপেন সিক্রেট’। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ উপার্জনের নেশায় মেতে উঠেছেন।

অভিযুক্তদের হাত থেকে রেহাই পাননি খোদ বাহিনীর সাবেক এক সদস্যও। মোশাররফ নামের এক সাবেক পুলিশ সদস্য অভিযোগ করেছেন যে, এএসআই হারুন ও এসআই পরিমল তাঁকে বিনা অপরাধে আটক করে আদালতে পাঠান। এই ঘটনায় ‘সজীব’ নামের এক যুবককে সাক্ষী মানা হলেও আদালতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সজীব ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেন যে, পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোশাররফের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছিল। বাদীর এমন স্বীকারোক্তির পর আদালত মোশাররফকে জামিন প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী মোশাররফ ন্যায়বিচারের আশায় ইতিমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, মোশারফ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৯৯৯-এ অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ওসি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাঁদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের শাস্তির আওতায় এনে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করা হোক।

খালেদ পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

সীতাকুণ্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ওপেন সিক্রেট’ মামলা বাণিজ্য, দুই এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আইজিপিকে অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা মামলা এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন—এসআই পরিমল, এএসআই হারুন রশিদ এবং কনস্টেবল মেহেদী।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় এক ধরনের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নিরীহ মানুষকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের মতো ঘটনা এখন ওই এলাকায় ‘ওপেন সিক্রেট’। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ উপার্জনের নেশায় মেতে উঠেছেন।

অভিযুক্তদের হাত থেকে রেহাই পাননি খোদ বাহিনীর সাবেক এক সদস্যও। মোশাররফ নামের এক সাবেক পুলিশ সদস্য অভিযোগ করেছেন যে, এএসআই হারুন ও এসআই পরিমল তাঁকে বিনা অপরাধে আটক করে আদালতে পাঠান। এই ঘটনায় ‘সজীব’ নামের এক যুবককে সাক্ষী মানা হলেও আদালতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সজীব ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেন যে, পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোশাররফের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছিল। বাদীর এমন স্বীকারোক্তির পর আদালত মোশাররফকে জামিন প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী মোশাররফ ন্যায়বিচারের আশায় ইতিমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, মোশারফ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৯৯৯-এ অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ওসি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাঁদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের শাস্তির আওতায় এনে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করা হোক।

খালেদ পোস্টকার্ড ;