১২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনজুরের বাসায় হাসনাতের আড়াই ঘণ্টা, নেপথ্যে কি এনসিপির মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাব?

চট্টগ্রাম নগরের সাবেক মেয়র ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এম মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীর বাসভবনে গত মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার সফর নিয়ে নগরে এখন টক অব দ্য টাউন। এক সময়ের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলের ঘনিষ্ঠ এই বর্ষীয়ান নেতাকে এনসিপির মহানগর কমিটির প্রধান করা এবং আগামী চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার গুঞ্জন এখন তুঙ্গে।

সূত্রমতে, হাসনাত আব্দুল্লাহর এই চট্টগ্রাম সফরটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। এমনকি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কিংবা এনসিপির স্থানীয় অধিকাংশ নেতাকর্মীও এই সফরের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসনাত নিজেই ফোন করে মনজুর আলমের বাসায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিকেল ৩টায় তিনি সেখানে পৌঁছান এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

এনসিপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার দাবি, হাসনাত আব্দুল্লাহ মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে মনজুর আলমের কাছে গিয়েছিলেন। প্রথমটি হলো—চট্টগ্রাম মহানগরের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক হওয়া এবং দ্বিতীয়টি—এনসিপির সমর্থনে আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা। এনসিপি নেতারা মনে করছেন, তরুণ নেতৃত্বাধীন এই দলে একজন ‘ওজনদার’ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে সামনে আনা জরুরি, যিনি রাজনৈতিকভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

বৈঠক শেষে এম মনজুর আলম সাংবাদিকদের জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহ তাকে এনসিপিকে ‘একটু দেখতে ও সহযোগিতা করতে’ অনুরোধ করেছেন। তবে মেয়র পদে নির্বাচন বা দলীয় পদ গ্রহণের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো সম্মতি দেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাবেক এই মেয়র বর্তমানে কয়েকটি কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন,

১. আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ।
২. ব্যাংক লোন সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য রাজনৈতিক হয়রানির আশঙ্কা।
৩. জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তার নাম থাকা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ যখন মনজুর আলমের বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন সেখানে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের একদল কর্মী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা মনজুর আলমকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই মূলত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বেগবান হয়।

এদিকে, একজন সংসদ সদস্যের এমন গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পর্কে তথ্য না থাকায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিশেষ শাখার (এসবি) ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, মনজুর আলমের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে ঈদের পর দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলামের চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে মহানগরের নতুন কমিটি ঘোষণা করার পরিকল্পনা থাকলেও মনজুর আলমের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ‘কিংমেকার’ বা পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মনজুর আলম শেষ পর্যন্ত এনসিপির পতাকাতলে আসেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন নগরবাসী।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’: আন্তর্জাতিক মানের নগর গড়তে সিপিডিএলের মহাপরিকল্পনা

মনজুরের বাসায় হাসনাতের আড়াই ঘণ্টা, নেপথ্যে কি এনসিপির মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাব?

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের সাবেক মেয়র ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এম মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীর বাসভবনে গত মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার সফর নিয়ে নগরে এখন টক অব দ্য টাউন। এক সময়ের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলের ঘনিষ্ঠ এই বর্ষীয়ান নেতাকে এনসিপির মহানগর কমিটির প্রধান করা এবং আগামী চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার গুঞ্জন এখন তুঙ্গে।

সূত্রমতে, হাসনাত আব্দুল্লাহর এই চট্টগ্রাম সফরটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। এমনকি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কিংবা এনসিপির স্থানীয় অধিকাংশ নেতাকর্মীও এই সফরের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসনাত নিজেই ফোন করে মনজুর আলমের বাসায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিকেল ৩টায় তিনি সেখানে পৌঁছান এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

এনসিপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার দাবি, হাসনাত আব্দুল্লাহ মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে মনজুর আলমের কাছে গিয়েছিলেন। প্রথমটি হলো—চট্টগ্রাম মহানগরের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক হওয়া এবং দ্বিতীয়টি—এনসিপির সমর্থনে আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করা। এনসিপি নেতারা মনে করছেন, তরুণ নেতৃত্বাধীন এই দলে একজন ‘ওজনদার’ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে সামনে আনা জরুরি, যিনি রাজনৈতিকভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

বৈঠক শেষে এম মনজুর আলম সাংবাদিকদের জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহ তাকে এনসিপিকে ‘একটু দেখতে ও সহযোগিতা করতে’ অনুরোধ করেছেন। তবে মেয়র পদে নির্বাচন বা দলীয় পদ গ্রহণের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো সম্মতি দেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাবেক এই মেয়র বর্তমানে কয়েকটি কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন,

১. আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ।
২. ব্যাংক লোন সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য রাজনৈতিক হয়রানির আশঙ্কা।
৩. জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তার নাম থাকা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ যখন মনজুর আলমের বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন সেখানে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের একদল কর্মী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা মনজুর আলমকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই মূলত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বেগবান হয়।

এদিকে, একজন সংসদ সদস্যের এমন গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পর্কে তথ্য না থাকায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিশেষ শাখার (এসবি) ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, মনজুর আলমের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে ঈদের পর দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলামের চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে মহানগরের নতুন কমিটি ঘোষণা করার পরিকল্পনা থাকলেও মনজুর আলমের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ‘কিংমেকার’ বা পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মনজুর আলম শেষ পর্যন্ত এনসিপির পতাকাতলে আসেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন নগরবাসী।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;