চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজার সংলগ্ন অত্যন্ত ব্যস্ততম অংশে একটি বিশালাকার কংক্রিটের পাথরের টুকরো ও লোহার রড বিপজ্জনকভাবে পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটির ওপর এই মরণফাঁদ পড়ে থাকলেও তা সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ। এই অবহেলার কারণে যেকোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা, যা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে অনেক নিরপরাধ মানুষের।
বারইয়ারহাট বাজারের কাছে মহাসড়কের প্রবেশমুখের ওভারপাসের নিচে দেখা গেছে এই ভয়াবহ চিত্র। সড়কের ডিভাইডারের গা ঘেঁষে একটি সুবিশাল ভাঙা কংক্রিটের স্ল্যাবের অংশ পড়ে আছে, যেটিকে স্থানীয়রা পাথরের টুকরো বলে আখ্যা দিয়েছেন। কংক্রিটটির গা থেকে ধারালো লোহার রড বের হয়ে আছে, যা একে আরও বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছে। পাশেই সড়কে একটি ছোট গর্তে পানি জমে আছে এবং এর চারপাশ আবর্জনায় পরিপূর্ণ। এই পাথরটি সড়কের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং চালকদের অসাবধানতায় ধাক্কা লাগার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
এলাকাবাসী এবং নিয়মিত চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “পাথরটি এভাবে পড়ে আছে অথচ সড়ক বিভাগ বা বাজার কর্তৃপক্ষের চোখে এটা পড়ে না! প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। রাতের অন্ধকারে বা বৃষ্টির দিনে এই পাথরটি দেখা না গেলে বড় দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী।”
আরেক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের দেশে সবসময় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আলোচনা হয়। কিন্তু আগে থেকে সতর্ক হওয়ার কোনো মানসিকতা দেখা যায় না। পাথরটি সরানোর লোক নেই, কিন্তু আল্লাহ না করুক, এটার কারণে যদি কারো দুর্ঘটনা হয় এবং মৃত্যু হয়, তখন দেখবেন লাশ টানার লোকের অভাব হবে না! কিন্তু এই বিপদজনক পাথরটি সরিয়ে নিতে কে উদ্যোগ নেবে?”
বারইয়ারহাট মহাসড়কের এই অংশটি খুবই ব্যস্ত এবং এখানে পণ্যবাহী ভারী ট্রাক, কন্টেইনারবাহী লরি থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস এবং স্থানীয় সিএনজি চালিত অটোরিকশাও চলাচল করে। বিশেষ করে ভারী যানবাহনগুলো বা রাতের বেলা অন্যান্য যানবাহন যখন এই স্থানটি অতিক্রম করে, তখন তারা পাথরটি ঠিকমতো দেখতে নাও পেতে পারে। এই পাথরের সঙ্গে সংঘর্ষে যানবাহন উল্টে যাওয়া, চাকা পাংচার হওয়া বা বড় ধাক্কার ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, বের হয়ে থাকা ধারালো রড পথচারীদের জন্যও মারাত্মক বিপদ তৈরি করতে পারে।
এত বড় একটি বিপজ্জনক কাঠামো মহাসড়কের ওপর পড়ে থাকার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে ভারী ক্রেন বা যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই পাথরটি অপসারণ করা হোক। দুর্ঘটনা ঘটার পর দুঃখ প্রকাশের বদলে, ঘটনার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী জনসাধারণ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















