০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক দখল করে ‘বিপজ্জনক’ তোরণ, কঠোর অবস্থানে সিডিএ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট–বায়েজিদ লিংক রোডের প্রবেশমুখে সব ধরনের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে একটি বিশালাকার লোহার তোরণ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক চসিক মেয়র এম. মনজুর আলমের বিরুদ্ধে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের ওপর অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থাপনাটি নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনশ্য ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এই অবৈধ তোরণ দ্রুত সরিয়ে না নিলে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফৌজদারহাট লিংক রোডের গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজের ঠিক পরেই সড়কের দুই পাশ দখল করে এই তোরণটি স্থাপন করা হয়েছে। তোরণটির মূল কাঠামোটি অত্যন্ত ভারী লোহা দিয়ে তৈরি এবং এর দুই প্রান্তে ইট-সিমেন্টের স্থায়ী ঢালাই দিয়ে ভিত্তি নির্মাণ করা হয়েছে।

কাঠামোটিতে ‘হযরত গাউছুল আজম আহমদিয়া রহমানিয়া আশেকানে মাইজভান্ডারী (গেইট)’ লেখা থাকলেও এর নিচে বড় অক্ষরে সৌজন্যে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের নাম প্রচার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মীয় নাম ব্যবহার করে মূলত ব্যক্তিগত প্রচারণার উদ্দেশ্যে এই বিপজ্জনক তোরণটি বসানো হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, মহাসড়কের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন স্থায়ী কাঠামো চালকদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটানোর পাশাপাশি বড় দুর্ঘটনার পথ প্রশস্ত করছে।

সিডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই তোরণ নির্মাণের কোনো অনুমতি সংস্থাটি দেয়নি। বরং অনুমোদনের আবেদন আসলেও তা জননিরাপত্তার স্বার্থে নাকচ করে দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম লঙ্ঘন করে তোরণটি নির্মাণ করায় সিডিএ চেয়ারম্যান নুরুল করিম চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন: “মহাসড়কের ওপর এ ধরনের স্থায়ী ও ভারী স্থাপনা সম্পূর্ণ অবৈধ। অনুমোদনহীন এই তোরণ কোনোভাবেই রাস্তায় থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা সাবেক মেয়রকে এটি দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি। তিনি নিজ থেকে এটি সরিয়ে না নিলে আমরা উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে এটি অপসারণ করব। জনগণের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে প্রচারণা চালাতে দেওয়া হবে না।”

সিডিএ’র প্রকৌশলী আসাদ বিন আনোয়ার জানান, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে প্রক্রিয়াধিন রয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যস্ত এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত কয়েক হাজার ভারী যানবাহন, বিশেষ করে কন্টেইনারবাহী লরি ও উচ্চতাসম্পন্ন ট্রাক চলাচল করে। তোরণটির উচ্চতা নিয়ে কোনো সঠিক পরিমাপ না থাকায় যেকোনো সময় লরির ওপর তোরণটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কের স্বাভাবিক দৃশ্যমানতা নষ্ট করে এমন নির্মাণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। সিডিএ-র সাথে সমন্বয় করে দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান যেন কেবল আল্টিমেটামেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই ‘মৃত্যুকূপ’ অপসারণ করে সড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র, আজ হস্তান্তর

সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক দখল করে ‘বিপজ্জনক’ তোরণ, কঠোর অবস্থানে সিডিএ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট–বায়েজিদ লিংক রোডের প্রবেশমুখে সব ধরনের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে একটি বিশালাকার লোহার তোরণ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক চসিক মেয়র এম. মনজুর আলমের বিরুদ্ধে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের ওপর অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থাপনাটি নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনশ্য ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এই অবৈধ তোরণ দ্রুত সরিয়ে না নিলে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফৌজদারহাট লিংক রোডের গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজের ঠিক পরেই সড়কের দুই পাশ দখল করে এই তোরণটি স্থাপন করা হয়েছে। তোরণটির মূল কাঠামোটি অত্যন্ত ভারী লোহা দিয়ে তৈরি এবং এর দুই প্রান্তে ইট-সিমেন্টের স্থায়ী ঢালাই দিয়ে ভিত্তি নির্মাণ করা হয়েছে।

কাঠামোটিতে ‘হযরত গাউছুল আজম আহমদিয়া রহমানিয়া আশেকানে মাইজভান্ডারী (গেইট)’ লেখা থাকলেও এর নিচে বড় অক্ষরে সৌজন্যে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের নাম প্রচার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মীয় নাম ব্যবহার করে মূলত ব্যক্তিগত প্রচারণার উদ্দেশ্যে এই বিপজ্জনক তোরণটি বসানো হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, মহাসড়কের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন স্থায়ী কাঠামো চালকদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটানোর পাশাপাশি বড় দুর্ঘটনার পথ প্রশস্ত করছে।

সিডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই তোরণ নির্মাণের কোনো অনুমতি সংস্থাটি দেয়নি। বরং অনুমোদনের আবেদন আসলেও তা জননিরাপত্তার স্বার্থে নাকচ করে দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম লঙ্ঘন করে তোরণটি নির্মাণ করায় সিডিএ চেয়ারম্যান নুরুল করিম চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন: “মহাসড়কের ওপর এ ধরনের স্থায়ী ও ভারী স্থাপনা সম্পূর্ণ অবৈধ। অনুমোদনহীন এই তোরণ কোনোভাবেই রাস্তায় থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা সাবেক মেয়রকে এটি দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি। তিনি নিজ থেকে এটি সরিয়ে না নিলে আমরা উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে এটি অপসারণ করব। জনগণের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে প্রচারণা চালাতে দেওয়া হবে না।”

সিডিএ’র প্রকৌশলী আসাদ বিন আনোয়ার জানান, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে প্রক্রিয়াধিন রয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যস্ত এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত কয়েক হাজার ভারী যানবাহন, বিশেষ করে কন্টেইনারবাহী লরি ও উচ্চতাসম্পন্ন ট্রাক চলাচল করে। তোরণটির উচ্চতা নিয়ে কোনো সঠিক পরিমাপ না থাকায় যেকোনো সময় লরির ওপর তোরণটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কের স্বাভাবিক দৃশ্যমানতা নষ্ট করে এমন নির্মাণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। সিডিএ-র সাথে সমন্বয় করে দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান যেন কেবল আল্টিমেটামেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই ‘মৃত্যুকূপ’ অপসারণ করে সড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;