সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন প্রাণের জোয়ার। দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াই আর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের হাতে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বের ভার অর্পণ করায় খুশিতে উদ্বেলিত তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
রবিবার ( ৫ এপ্রিল ) বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌরসভা চত্বরে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বরণ করে নিতে এদিন জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী।
সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নবগঠিত কমিটির শীর্ষ নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এসময় নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পৌর এলাকা।
অভিনন্দন প্রাপ্ত নেতারা হলেন— নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহবায়ক সালামত উল্লাহ, সদস্য সচিব মোঃ মোরসালিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী। তৃণমূলের কর্মীরা তাদের প্রিয় নেতাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেন।
এই আনন্দ আয়োজনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চট্টগ্রামের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা এবং সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরীর প্রতি।
নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনে যারা রাজপথে থেকে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যোগ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে এই নতুন কমিটির মাধ্যমে। সঠিক সময়ে সঠিক নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করায় তারা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তাদের মতে, এই নতুন কমিটি সীতাকুণ্ডে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করবে।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির নেতারা বলেন, সীতাকুণ্ড বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এই দুর্গকে অটুট রাখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তারা দলের প্রতিটি কর্মীকে সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করার এবং দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে , শুক্রবার (৩ মার্চ) সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ। একইসঙ্গে উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করেন তিনি ।
নতুন ঘোষিত কমিটিতে পূর্বের আহ্বায়ক কমল কদরকে পুনরায় আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া জহুরুল আলম জহুর ও সালামত উল্লাহকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক স্বেচ্চাসেবকদলের সাবেক সভাপতি নেতা মো. মোরসালিনকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে যুবদল নেতা ফজলুল করিম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়।
দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৯০–১২০ দিনের মধ্যে সম্মেলনের আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর ১ নম্বর সৈয়দপুর থেকে ৭ নম্বর কুমিরা ইউনিয়ন পর্যন্ত সব ইউনিয়ন কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















