গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতার সীমানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য কতটুকু জবাবদিহিতা প্রয়োজন, তা আমাদের জানান। সেই নির্ধারিত সীমানার মধ্যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা রাষ্ট্রীয়-অরাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ যাতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয় পালন করবে।”
গতকাল নগরীর চট্টগ্রাম ক্লাব প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার গণমাধ্যমের পরিপূর্ণ স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনো স্বাধীনতা যদি দায়িত্বের কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা না যায়, তবে তার সুফল ভোগ করা যায় না। আবার সেই কাঠামো যদি সরকার একতরফা নির্ধারণ করে, তবে অতীতের সরকারের সাথে আমাদের কোনো পার্থক্য থাকবে না।” তিনি একটি যৌথ ‘পথনকশা’ তৈরির মাধ্যমে স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিজ্ঞাপন বণ্টন ও অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “এতদিন তোষামোদিই ছিল বিজ্ঞাপন পাওয়ার মাধ্যম। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা সংবাদপত্রের ভিড়ে প্রকৃত গণমাধ্যম চিহ্নিত করতে নীতিমালা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, সরকার ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যারা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করবে এবং যারা করবে না, তাদের আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, সংবাদ মাধ্যম হলো সমাজের দর্পণ। তিনি প্রত্যাশা করেন, গণমাধ্যম সবসময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে থাকবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সাংবাদিকদের সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক সামর্থ্যবানদের প্রতি পরিকল্পিতভাবে যাকাত আদায়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “লাইন ধরিয়ে সামান্য টাকা না দিয়ে যদি একজন বা দুইজনকে স্বাবলম্বী করে দেওয়া যায়, তবেই যাকাতগ্রহীতা প্রকৃত অর্থে উপকৃত হবে।”
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৯), এবং সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০) প্রমুখ ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















