চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় এলাকায় আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন স্টারশিপ ফুড প্রোডাক্টস কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বিস্ফোরণ পরবর্তী সময়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বজনদের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে কেডিএস গার্মেন্টসের পার্শ্ববর্তী ওই কারখানায় বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার ফাইটার মোহাম্মদ সোহেল জানান, তারা পৌঁছানোর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পরই কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে শত শত স্বজন কারখানার সামনে ভিড় করেন। কিন্তু কাউকে ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় এবং সঠিক তথ্য না পাওয়ায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিকরের বাবা বলেন, “ভেতরে আমার মেয়ে আছে। বিস্ফোরণে জানালার কাঁচ পর্যন্ত উড়ে গেছে শুনলাম, কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো খবর দিচ্ছে না। এটা কেমন অমানবিক আচরণ?”
আবুল খায়ের গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) ইমরুল কাদের ভূঁইয়া বলেন, বোতল তৈরির মেশিনের পাশের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন লাগার পর ধোঁয়া বের করার জন্য ওই কক্ষের দরজা-জানালা ভেঙে দেওয়া হয়। আহতদের গ্রুপের নিজস্ব হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, তিনজন এখনও চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়লার বিস্ফোরণের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা সঠিক নয়।
ঘটনা পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, কোনো প্রাণহানি হয়নি। তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন যারা এখন আশঙ্কামুক্ত।”
অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া ১১ জন আহতের তথ্যের সাথে মেয়রের বক্তব্যের এই অসামঞ্জস্যতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
তাচছাড়া আজ ছুটির দিনেও কেন খোলা ছিল কারখানা এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে । উল্লেখ্য আজ মঙ্গলবার নির্বাচন উপলক্ষে দেশের সকল শিল্পাঞ্চলে বিশেষ সাধারণ ছুটি ঘোষিত ছিল।
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কেন এই ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাটি চালু রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। এই বিষয়ে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতি-সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;



















