• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
অভাবকে জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫, অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফাহমিদা সীতাকুণ্ডে চাঁদা না পেয়ে হামলা ও বাগানের গাছ কাটার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি সীতাকুণ্ডে উপজেলা শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক নির্বাচিত হলেন আনসার সদস্য সরোয়ার উদ্দিন তিনবারের শ্রেষ্ঠ উপজেলা যুব সংগঠনের স্বীকৃতি পেল সীতাকুণ্ডের ‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’ কাল থেকে চট্টগ্রামসহ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, গতিসীমা সর্বোচ্চ ২৫ কিমি ফয়’স লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন দুই হাত ছাড়াই স্বপ্নের সাফল্য, পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেল রাব্বি বিয়ের দাওয়াত খেয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না ব্যবসায়ী নুরুল হুদার মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা, নিবন্ধনের আওতায় আসছে ই-রিকশা মিরসরাইয়ে পরিচ্ছন্নতা, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

অভাবকে জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫, অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফাহমিদা

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।। / ২৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

অভাব আর প্রতিকূলতা যাদের স্বপ্নকে আটকাতে পারে না, ফাহমিদা তাদেরই একজন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে শুধু পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, পুরো এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে।

ফাহমিদার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামের ইতিহাস। তার বাবা সীতাকুণ্ডের অলিগলিতে পত্রিকা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান। সীমিত সেই আয়ের পুরোটাই ব্যয় হয়েছে মেয়ের পড়াশোনার পেছনে। শত আর্থিক সংকট ও টানাপোড়েনও দমাতে পারেনি এই বাবাকে, আর পিছু হটতে শেখেনি ফাহমিদাও। বাবার ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর নিজের নিরলস অধ্যবসায়কে সম্বল করে সে আজ এই উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মেয়ের এই সাফল্যে বুকভরা গর্ব নিয়ে বাবা বলেন, সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করেছি শুধু মেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগানোর জন্য। আজ আমার মেয়ের ফলাফলে আমি খুবই আনন্দিত। সে চিকিৎসক হতে চায় এবং আমারও স্বপ্ন, আমার মেয়ে একদিন ডাক্তার হবে। তার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

নিজের সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব বাবা ও শিক্ষকদের প্রতি উৎসর্গ করে ফাহমিদা বলে, এই সাফল্য শুধু একা আমার নয়, আমার বাবা ও শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। বাবা প্রতিদিন পত্রিকা বিক্রি করে আমার পড়াশোনার সব ব্যবস্থা করেছেন। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই এবং দরিদ্র মানুষের সেবা করতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার ভবিষ্যৎ জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

ফাহমিদার এমন অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাফল্যের প্রশংসা করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ফাহমিদা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী একটি মেয়ে। তার এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য আমাদের সবার জন্যই এক বিরাট গর্বের বিষয়। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি, সে তার জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সফল হবে এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করবে।

জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে হার না মেনে ফাহমিদা প্রমাণ করেছে যে, স্বপ্ন দেখার সাহস এবং তা বাস্তবায়নের কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বাধাকেই পেছনে ফেলা সম্ভব। তার এই সংগ্রাম ও সাফল্য শুধু তার নিজের পরিবারেই নয়, বরং সমাজের প্রতিটি সংগ্রামী মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে এবং অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..