• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিআরটিএ’র আর্থিক সহায়তা সীতাকুণ্ডে উপকূলে অর্ধগলিত শিশুর লাশ, গাউছিয়া কমিটির সহায়তায় উদ্ধার সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে গৃহবধূর মৃত্যু সীতাকুণ্ডে শিক্ষক সংকটে স্থবির মাদ্রাসা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রধান শিক্ষক নেই একাধিক প্রতিষ্টানে সার পাচার আটকাতে গিয়ে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় কারাগারে কৃষক ফেরদৌস স্টিলে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু, বিচার ও পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতা! চোখের জলে চিরবিদায়, আর্জেন্টিনার জার্সিতে সোনালী অধ্যায়ের ইতি টানলেন মেসি মিলাদ শরীফে প্রিয়নবী ﷺ-এর পাশাপাশি অলি-আউলিয়াদের প্রতি সালাম, আবেগ বনাম শরীয়তের বিধান আন্তর্জাতিক বিদায় ম্যাচে মেসির অনন্য অভিজ্ঞতা, হলুদ ও লাল কার্ড দিলেন রেফারি এনসিটি ইজারা চুক্তি কাল, চট্টগ্রাম বন্দর অচলের হুমকি বিএনপি-জামায়াত ও শ্রমিকদের

সীতাকুণ্ডে শিক্ষক সংকটে স্থবির মাদ্রাসা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রধান শিক্ষক নেই একাধিক প্রতিষ্টানে

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।। / ১৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
খাজা কালুশাহ (রা.) বালিকা বিদ্যালয়, সীতাকুণ্ড। ছবি : সময়ের আলো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দাপ্তরিক ও পাঠদানের দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই জোড়াতালি দিয়ে চলছে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, যার ফলে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকলেও এই পদে পদায়নের জন্য ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের আলম লায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ডেপুটেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ এলাকার অভিভাবক শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা করা গেলে উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন সম্পর্কে সীতাকুণ্ড উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গত দুই-তিন মাস ধরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে রিডিং পড়তে পারে না, তাদের তালিকা করে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক স্তরের ১১টি স্থায়ী প্রধান শিক্ষকবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহ.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা। পরিচালনা কমিটির উদাসীনতা ও নিজেদের পছন্দের জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতার কারণেই এই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার জানান, ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ১০টি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। বারবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়ার পরও পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়নসহ বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক নামাজের ঘর এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হলে শূন্যতা কেটে যাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, পুরো জেলায় এক হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৬১ জন নতুন শিক্ষকের মধ্য থেকে আগামী ১১ অক্টোবর সীতাকুণ্ডে ১০ জন নতুন শিক্ষক পদায়ন করা হবে, যা উপজেলার শিক্ষক সংকট কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ; 


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..