• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সিলিমপুরে আবাসিক এলাকা বাঁচিয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণের আহ্বান মানবতার ফেরিওয়ালা আনসার সদস্য সরোয়ার উদ্দিন ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান মিরসরাইয়ে ফার্নেস বিস্ফোরণে আহত চীনা প্রকৌশলীসহ তিন শ্রমিকের মৃত্যু সীতাকুণ্ডে ‘সমাজ দর্পণ’ প্রকাশনা ও সংবর্ধনা সভা ,২৫৫ সদস্যের উদ্যাপন কমিটি গঠন ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিল ‘ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ’ সীতাকুণ্ডে ছাত্রলীগের দুই নেতা আটক, ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের ভিডিও ভাইরাল ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসছে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন, যুক্ত হবে জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা, সীতাকুণ্ডে প্রাণ গেল তরুণ ব্যবসায়ীর

সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডে চরম প্রাণহানি ও শ্রম শোষণের চিত্র, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যজীবীদের জীবন বিপন্ন

বিশেষ প্রতিবেদক ।। / ১৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপজেলার উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলো বর্তমানে শ্রমিকদের জন্য এক মারাত্মক মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এবং চরম শ্রম শোষণের কারণে এসব ইয়ার্ডে প্রতিনিয়ত ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। শিল্প মালিকদের মুনাফালিপ্সা এবং শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতার ফলে একদিকে যেমন শত শত শ্রমিকের জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে, অন্যদিকে উপকূলীয় পরিবেশ ও বঙ্গোপসাগরের অমূল্য মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এর ফলে হাজার হাজার জেলে পরিবার আজ চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিগত প্রায় তিন দশক ধরে জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলোতে শ্রম শোষণের মাত্রা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা গোটা দেশে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে। অথচ এই ইয়ার্ডগুলোতে জাহাজ কাটার মূল কারিগর হলো বাংলার সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, যারা প্রতিনিয়ত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। বিশেষ করে গত ১৪ আগস্ট সরকারি ছুটির দিনেও শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয়, যা প্রচলিত শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ আইনের নিয়ম অনুযায়ী ছুটির দিনে কাজের বিনিময়ে দ্বিগুণ মজুরি ও ক্ষতিপূরণমূলক ছুটির বিধান থাকলেও নামমাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোথাও তা মানা হয় না। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এস এম কর্পোরেশনের ইয়ার্ডে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৬ জন শ্রমিক নিহত হন। এর আগে আর কে শিপইয়ার্ড এবং সম্প্রতি ফেরদৌস স্টিলসহ বিভিন্ন ইয়ার্ডে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ফেরদৌস স্টিল কর্তৃপক্ষের মারাত্মক গাফিলতি এবং অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিন দশক আগে পর্যন্ত জাহাজ কাটা ও নির্মাণের কাজ মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোতেই হতো। কিন্তু সে দেশের শ্রমিকদের উচ্চ মজুরি, নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং প্রাণ-প্রকৃতি সমুদ্র দূষণ এড়াতে তারা বিভিন্ন লোভনীয় টোপ ও অর্থের বিনিময়ে অনুন্নত দেশগুলোতে এসব মৃত্যুমুখী জাহাজ পাঠাতে শুরু করে। যার প্রধান গন্তব্য হয় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও তুরস্ক। উন্নত দেশগুলো কঠোর আইনের মাধ্যমে নিজেদের পরিবেশ রক্ষা করলেও আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। সম্প্রতি ফেরদৌস স্টিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডের গেইটে শত শত নারী ও স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়, যা এই শিল্পের নির্মম রূপটিকে আবারও উন্মোচন করেছে। অতীতে এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও মালিকপক্ষ দায় এড়াতে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে পার পেয়ে যায়। ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দোষী ইয়ার্ড মালিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক হত্যা মামলা ও কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে এই প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব নয়।

জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলোর নেতিবাচক প্রভাব কেবল শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর পরিধি বিস্তৃত হয়েছে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের ওপরও। ইয়ার্ডের কারণে সাগরে মাছ ধরার পথ সংকুচিত হওয়াসহ বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় জেলেরাই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং মাঝেমধ্যে তাদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনাও ঘটছে। পূর্বে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক জেলের পরিবার ইয়ার্ডের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অতীতে বাল্কহেডের শ্রমিকদের হাতে জেলেদের নির্মমভাবে সাগরে ফেলে দেওয়ার মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে, যা পরবর্তীতে কোস্টগার্ডের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা, শ্রম আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও শ্রমিকদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

খালেদ / পোস্টকার্ড ; 


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..