
ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিয়ে, নতুন সংসার আর অনাগত সন্তানকে ঘিরে ছিল কত স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার আগেই থেমে গেল তানিয়া কামাল নিহাতের (২০) জীবন। বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই গৃহবধূ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী নুর উদ্দিনকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই মোনাফ হাজির পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তানিয়া পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। তাঁর স্বামী নুর উদ্দিন একই উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের পরিণতিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন তানিয়ার স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, যৌতুকের জন্য প্রায়ই তানিয়াকে নির্যাতন করা হতো।
তানিয়ার বাবা মোহাম্মদ কামালের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করেছিলেন। রমজান মাসে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দিলেও সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক দাবি করা হয়। সেই দাবি পূরণ করতে না পারায় তানিয়ার ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে।
তাঁর অভিযোগ, মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত অনাগত সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই প্রাণ হারাতে হলো তানিয়াকে।
পটিয়া উপজেলা কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তানিয়া ও নুর উদ্দিনের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর যৌতুককে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবেননি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূর স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তানিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একটি সংসার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যে মেয়েটি ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন, সেই সংসারেই নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে তাঁর এমন করুণ পরিণতি গভীর শোক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে তানিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;
এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..