চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অনুদানের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসপাতালটির সাবেক সভাপতি ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী এবং হাসপাতালের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বেলাল উদ্দীন। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে অনুদান হিসেবে মোট সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা পেয়েছিল হাসপাতালটি। অভিযোগ রয়েছে, এই অনুদানের টাকা নিজেদের আয়ত্তে নিতে অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতির আশ্রয় নেন অভিযুক্তরা।
দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সরকারি অনুদানের এই অর্থ প্রথমে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের আন্দরকিল্লা শাখায় হাসপাতালের মূল হিসাবে জমা হতো। সেখান থেকে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১২টি চেকের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি আটত্রিশ লাখ পঁচানব্বই হাজার টাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত চলতি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে যে, হাসপাতালের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ মো. শাহাব উদ্দিন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে মারা যাওয়ার পরও তার মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষরযুক্ত চেক ব্যবহার করে টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাতের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে সরকারি অনুদানের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের সত্যতা পাওয়ায় কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্তকালে এই দুর্নীতির সঙ্গে অন্য কারও যোগসাজশ পাওয়া গেলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;