• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে ‘সুখী গ্রামে’ ক্যান্সার রোগীদের জন্য দুদিনব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত আট ঘণ্টায় এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে অনন্য রেকর্ড গড়ল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সীতাকুণ্ডে কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান বিএনপি নেতা এম সামছুদ্দোহা সীতাকুণ্ডে বাস-লরির সংঘর্ষে শিশুসহ ৬ যাত্রী নিহত, আহত ৭ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাস-লরি সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ৯ এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণ, ১৫ হাজার সহকর্মী নিয়ে মাঠে নামছেন চট্টগ্রামের ডিসি জীবন থাকতে যে ভুলগুলো শুধরে নেওয়া জরুরি. তওবা কবুল না হওয়ার সময়সমূহ সীতাকুণ্ডে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং লিবার্টির একগুচ্ছ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত আবারো যৌতুকের বলি , প্রাণ গেল ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়ার! মাত্র তিন বছরের মাথায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ আঁখি, প্রয়োজন পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

চোখের জলে চিরবিদায়, আর্জেন্টিনার জার্সিতে সোনালী অধ্যায়ের ইতি টানলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক ।। / ৭৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

আবেগের সাগরে ভাসিয়ে এবং লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। বুয়েনেস আইরেসের এস্তোনিয়া মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৮৫ হাজার দর্শকের উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তিকে এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন বিদায় জানানো হয়। আতশবাজি, আলোর জাদু আর গ্যালারি জুড়ে সমবেত হাততালিতে রাতটি হয়ে ওঠে চিরস্মরণীয়, যার দারুণ সমাপ্তি ঘটে মেসির একটি গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে।

ম্যাচ শুরুর বহু আগে থেকেই স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণায় বইছিল নস্টালজিয়া আর ভালোবাসার স্রোত। সমর্থকদের প্রায় সবার গায়েই ছিল ১০ নম্বর লেখা আর্জেন্টিনার জার্সি। মাঠে নামার আগেই সম্মান জানাতে টাঙানো হয়েছিল বিশাল আকৃতির এক নম্বর জার্সি, যার গায়ে বড় করে লেখা ছিল ‘ধন্যবাদ’। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো, তিন ছেলে থিয়াগো, মাতে ও সিরো এবং তার মা সেলিয়া। এছাড়া ডাগআউটে ও গ্যালারিতে সাবেক ও বর্তমান সতীর্থদের উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে আরও বেশি ভারাক্রান্ত করে তোলে।

জাতীয় সংগীতের সুর বেজে উঠতেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি; ক্যামেরার সামনে তার চোখের জল গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। শুধু মেসিই নন, গ্যালারিতে থাকা তার স্ত্রী-মা থেকে শুরু করে কোচ লিওনেল স্কালোনি, সতীর্থ নিকোলাস ওটামেন্ডি ও এঞ্জো ফের্নান্দেজদের চোখও জলে ভিজে ওঠে। খেলা শুরুর আগে প্রতিপক্ষ বেনিনের পক্ষ থেকে অ্যামাজন জঙ্গলের আদলে তৈরি একটি বিশেষ ভাস্কারকৃতি স্মারক এবং চিঠি উপহার দেওয়া হয় এই জাদুকরকে।

বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করে। মেসির প্রতিটি স্পর্শে গর্জে উঠছিল গ্যালারি। প্রথমার্ধে বেনিনের জমাট রক্ষণ ভাঙা সম্ভব না হলেও, বিরতির পরেই ডেডলক খোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসির নিখুঁত পাস থেকে দলকে এগিয়ে দেন সতীর্থ ওটামেন্ডি। এরপর নিকো পাজের দারুণ এক বাঁকানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরে যেন তাকে আগলে রাখেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পেনাল্টি মিসের স্মৃতি থাকলেও, বিদায়ী ম্যাচে ভুল করেননি তিনি; তার জোরালো কোণাকুনি শট জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম আনন্দে ফেটে পড়ে। এরপর আরও বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেলেও গোলকিপার ও পোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ বাঁশি বাজার আগে একটি ফ্রিকিক পেলেও তা বারের উপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচ শেষে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে সিক্ত নয়নে মেসি বলেন, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি রক্ষা করতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। আমরা বহু কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু লড়াই থামাইনি। তিনি আরও যোগ করেন, আমি শপথ করে বলতে পারি সারা জীবন খেলতে চাই, কারণ দেশের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি। সমস্ত ভক্ত ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বুকভরা গর্ব, কৃতজ্ঞতা ও শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।

খালেদ / পোস্টকার্ড ; 


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..