ইসলাম ধর্মের অন্যতম মৌলিক ও সুন্দর শিক্ষা হলো পরমতসহিষ্ণুতা এবং মানবজাতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মানবজাতিকে সম্মানিত করা হয়েছে এবং জলে-স্থলে চলাচলের বাহন ও উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করে সৃষ্টিজগতের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানুষের পরস্পরের মধ্যে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকলে দুনিয়া ও আখিরাতে মহাপুরস্কার লাভ করা যায়। পারস্পরিক জুলুম, অবজ্ঞা বা হেয়প্রতিপন্ন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) শিখিয়েছেন যে কোনো মুসলিমকে তুচ্ছজ্ঞান করার মতো নিকৃষ্ট কাজ আর হতে পারে না, কারণ প্রতিটি মানুষের জীবন, ধনসম্পদ ও মানসম্মান অত্যন্ত সুরক্ষিত ও পবিত্র আমানত। এমনকি অমুসলিমদের প্রতিও নবীজির আচরণ ছিল অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ, যার প্রমাণ মেলে এক ইহুদির মরদেহের সম্মানে তাঁর দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায়।
মানুষের মর্যাদাহানি, কুৎসা রটনা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, একে অপরের দোষ অন্বেষণ এবং হিংসা-বিদ্বেষ ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। অন্যের দোষ খুঁজলে আল্লাহ নিজেও তার দোষ অন্বেষণ করেন এবং তাকে অপদস্থ করেন। ঘৃণা ও পরনিন্দার পরিবর্তে সমাজে শ্রদ্ধা, সৌহার্দ ও ভালোবাসার প্রসার ঘটানোই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। পারস্পরিক সালাম বিনিময় ও ভালোবাসার মাধ্যমেই কেবল পূর্ণ মুমিন হওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;