চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এক দিনে আট ঘণ্টার মধ্যে এক লাখ বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার বিশেষ উদ্যোগে জেলার ১৫টি উপজেলায় একযোগে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। সরকারি কোনো অর্থ ব্যয় না করে, কেবল সহকর্মীদের যৌথ সহযোগিতায় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এত বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। বিকেলে সীতাকুণ্ডের বিখ্যাত ডিসি পার্কে জেলা প্রশাসক কর্তৃক একটি নারকেলগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক লাখ বৃক্ষরোপণ অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটে।
সফল বৃক্ষরোপণ উপলক্ষে ওই দিন সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের ডিসি পার্কে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পদমর্যাদার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সম্পূর্ণ বিনা খরচে পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের এই মডেলটি দেশের অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের জন্যও অনুকরণীয়। দেশের আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সবাইকে এভাবে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে কোনো কারণে গাছ কাটতে হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে সেই জায়গায় একাধিক নতুন বৃক্ষ রোপণ করা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, একটি সুস্থ ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ থেকেই এক দিনে এক লাখ বৃক্ষরোপণের এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছিল। বিশ্বের সব বড় অর্জন বা ল্যান্ডমার্ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমেই তৈরি হয়। কোনো প্রকার সরকারি তহবিল ব্যবহার না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতাতেই এই নতুন ল্যান্ডমার্ক অর্জন সম্ভব হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেন চিত্তমিডিয়ার কর্ণধার ও প্রধান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা। তিনি একে একটি অনন্য ও অসাধারণ উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, গাছ ছাড়া এই পৃথিবী অলংকারহীন দেহের মতো। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিজ হাতে রোপণ করা গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করা উচিত।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, এডিসি (এল এ) মোঃ কামরুজ্জামান, এডিসি (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামান, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, এনডিসি এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
খালেদ / পোস্টকার্ড ;