০৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ঢাকা, ২৪ জুলাই: বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার বলেন, “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি এবং তা গ্রহণ করেছি। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছি।”
তিনি আরও জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংসদে বর্তমানে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরেই পদত্যাগের মানসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। বিদায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। তবে স্পিকার বিদেশে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। স্পিকার গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান এবং শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন।
ঢাকায় ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেছিলেন, তিনি দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সেটি স্পিকারের কাছেই জমা দেওয়া হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডন সফরের সময় মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে কোনো সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও সমালোচনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার পদত্যাগের দাবি জানান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তার ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ তোলেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করল। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনি মামলার মুখেও থামেনি বেপরোয়া কর্মকাণ্ড, সীতাকুণ্ডে ফের বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের করুণ মৃত্যু

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকা, ২৪ জুলাই: বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার বলেন, “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি এবং তা গ্রহণ করেছি। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছি।”
তিনি আরও জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংসদে বর্তমানে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরেই পদত্যাগের মানসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। বিদায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। তবে স্পিকার বিদেশে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। স্পিকার গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান এবং শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন।
ঢাকায় ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেছিলেন, তিনি দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সেটি স্পিকারের কাছেই জমা দেওয়া হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডন সফরের সময় মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে কোনো সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও সমালোচনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার পদত্যাগের দাবি জানান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তার ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ তোলেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করল। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;