সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে গভর্নিং বডির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সভাপতি পদে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তাকে ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সীতাকুণ্ডের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির উত্তরে কেএসআরএম শিল্পপ্রতিষ্ঠান, দক্ষিণে কেওয়াইসিআর কয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, পূর্বে রেললাইন এবং পশ্চিমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও শিক্ষার মানের কারণে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিশেষ সুনাম অর্জন করে আসছে।
বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। মরহুম আলহাজ নজির আহাম্মদ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিনের উদ্যোগ এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় ২০০৫ সালে কলেজে উন্নীত হয়।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী নারগিস সুলতানা সুমা বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত এবং ২০০৯ সালের শিক্ষার্থী ইরতিহা আলম নাবিলা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করে। এছাড়া ২০২৩ সালে অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হন।
অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “আমি ২০০৫ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছি। বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আজকের অবস্থানে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “গভর্নিং বডির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অতীতেও কয়েক দফা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্তমানে সভাপতি পদ নিয়ে আবারও একটি পক্ষ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সভাপতি নিয়োগের বিষয়টি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।”
অধ্যক্ষের অভিযোগ, “কিছু ব্যক্তি মনে করছেন আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করলেই তারা সভাপতি হতে পারবেন। মূলত সেই উদ্দেশ্যেই নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অতীতেও একই ধরনের পরিস্থিতির কারণে আমি হয়রানির শিকার হয়েছিলাম। এখনো একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও অপপ্রচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে।
নোট: এই প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া তথ্য ও অধ্যক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদধর্মী ভাষায় সম্পাদনা করা হয়েছে। যদি অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়, সেটিও যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।
কাইয়ুম / খালেদ / পোস্টকার্ড ;









