০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলে যাওয়ার আগেই নিভে গেল রামিসার প্রাণ, মাদক সেবন করে ধর্ষণের পর মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ঘাতক সোহেল

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আজ, ২০ মে ২০২৬ (বুধবার) আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ১৯ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির ৩ তলায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। এই পরিবারটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই বাড়ির তিনতলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিল।

অন্য দিকে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪) পেশায় একজন রিকশা মেকানিক। সে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে ওই ফ্ল্যাটেরই একটি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতে শুরু করে। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

তদন্ত সূত্রে ও আজ আদালতে দেওয়া ঘাতক সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ঘরের ভেতর ডেকে নেয়। ঘরে নেওয়ার পর সোহেল রানা ইয়াবা সেবন করে এবং বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে মারাত্মকভাবে ধর্ষণ করে। বিকৃত এই নির্যাতনের কারণে শিশুটি একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময়ে বাইরে রামিসার মা পারভীন আক্তার তার মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা খুঁজতে খুঁজতে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার পায়ের একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তিনি দরজায় জোরে জোরে কড়া নাড়তে থাকেন এবং ডাকাডাকি করেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, রামিসার মা বাইরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করলেও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ইচ্ছা করেই দরজা খোলেননি। এই সময়ের মধ্যে সোহেল রানা বাথরুমের জানালার গ্রিল কেটে পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। স্বামীকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। এরপর রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর মাথা দেখতে পান।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ বেলা ১১টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী হিসেবে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই লোমহর্ষক ও পৈশাচিক ঘটনাটি পুরো মিরপুর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির (ফাঁসি) দাবি জানিয়েছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

আর্সেনিক ও দূষিত পানির থাবায় সীতাকুণ্ড, ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার!

স্কুলে যাওয়ার আগেই নিভে গেল রামিসার প্রাণ, মাদক সেবন করে ধর্ষণের পর মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ঘাতক সোহেল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আজ, ২০ মে ২০২৬ (বুধবার) আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ১৯ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির ৩ তলায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। এই পরিবারটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই বাড়ির তিনতলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিল।

অন্য দিকে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪) পেশায় একজন রিকশা মেকানিক। সে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে ওই ফ্ল্যাটেরই একটি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতে শুরু করে। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

তদন্ত সূত্রে ও আজ আদালতে দেওয়া ঘাতক সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ঘরের ভেতর ডেকে নেয়। ঘরে নেওয়ার পর সোহেল রানা ইয়াবা সেবন করে এবং বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে মারাত্মকভাবে ধর্ষণ করে। বিকৃত এই নির্যাতনের কারণে শিশুটি একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময়ে বাইরে রামিসার মা পারভীন আক্তার তার মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা খুঁজতে খুঁজতে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার পায়ের একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তিনি দরজায় জোরে জোরে কড়া নাড়তে থাকেন এবং ডাকাডাকি করেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, রামিসার মা বাইরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করলেও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ইচ্ছা করেই দরজা খোলেননি। এই সময়ের মধ্যে সোহেল রানা বাথরুমের জানালার গ্রিল কেটে পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। স্বামীকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। এরপর রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর মাথা দেখতে পান।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ বেলা ১১টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী হিসেবে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই লোমহর্ষক ও পৈশাচিক ঘটনাটি পুরো মিরপুর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির (ফাঁসি) দাবি জানিয়েছেন।

খালেদ / পোস্টকার্ড ;